দুর্গোৎসবকে ঘিরে জাগরিত হোক বরাকের শিল্প-সংস্কৃতি

Spread the news

।। শংকর চৌধুরী ।।
(সাংস্কৃতিক কর্মী, হাইলাকান্দি)
১৭ অক্টোবর : দুর্গোৎসব মানেই শুধু দেবী আরাধনা, আলোকসজ্জা কিংবা আনন্দ-উৎসব নয়!  এটি আমাদের ঐতিহ্য, আবেগ ও সাংস্কৃতিক চেতনার এক অনন্য মিলনমেলা। বরাক উপত্যকার দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠুক এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশ—এটাই আমার আন্তরিক প্রত্যাশা।

একসময় পুজোকে ঘিরে পাড়ায় পাড়ায় গান, কবিতা, আবৃত্তি, নাটক ও নৃত্যের আসর বসত। সেই সাংস্কৃতিক আবহে নতুন প্রতিভার বিকাশ ঘটত, শিল্পীরা পেতেন নিজেদের প্রকাশের মঞ্চ। সময়ের পরিবর্তনে পুজোর আয়োজন আরও জাঁকজমকপূর্ণ হয়েছে। তবে তার পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতির চর্চাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

দুর্গোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ দেবীপ্রতিমা ও মণ্ডপসজ্জা। এর নেপথ্যে রয়েছেন বরাক উপত্যকার অসংখ্য মৃৎশিল্পী ও কারুশিল্পী, যাঁদের নিপুণ হাতের সৃজনশীলতায় প্রাণ পায় মায়ের প্রতিমা ও উৎসবের সৌন্দর্য। তাঁদের শ্রম, শিল্পবোধ ও নৈপুণ্য আমাদের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে। একইভাবে সঙ্গীতশিল্পীদের সুর, কণ্ঠ ও পরিবেশনা উৎসবের আনন্দকে করে তোলে আরও মধুর। এই সমস্ত শিল্পীর প্রতি রইল আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

আমাদের বরাক উপত্যকা শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ ভূমি। দুর্গোৎসবের মঞ্চ হয়ে উঠুক নবীন ও প্রবীণ শিল্পীদের মিলনক্ষেত্র। নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক সুস্থ সাংস্কৃতিক চেতনা, সংরক্ষিত হোক আমাদের লোকসংস্কৃতি ও গৌরবময় ঐতিহ্য।

আমি বিশ্বাস করি, উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা মানুষের মিলন, সম্প্রীতি ও সৃজনশীলতার বিকাশে।

দেবী দুর্গার আশীর্বাদে সবার জীবন আনন্দ, শান্তি ও সম্প্রীতিতে ভরে উঠুক। দুর্গোৎসব হোক বরাকের শিল্প-সংস্কৃতির নবজাগরণের এক উজ্জ্বল প্রেরণা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *