বরাক তরঙ্গ, ১৯ অক্টোবর, সোমবার,
দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনোৎসব। পুজোর ক’টা দিন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ মেতে ওঠেন উৎসবের আনন্দে। কিন্তু বরাক উপত্যকার শিলচর, শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দির মানুষের কাছে এ বছরের দুর্গাপুজোর আনন্দ অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে বেহাল রাস্তা। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনে বেরিয়ে হাজার হাজার মানুষকে যদি ভাঙাচোরা রাস্তা, যানজট ও যাতায়াতের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়, তবে উৎসবের সার্বিক আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
শিলচর শহরের কয়েকটি প্রধান সড়কের অংশবিশেষ চলাচলের উপযোগী করে তোলা হলেও সোনাই রোড, লিঙ্ক রোড, পঞ্চায়েত রোড, বিবেকানন্দ রোড, শিববাড়ি রোড ও রায়গড় রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলির বেহাল দশা মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। শহরের বিভিন্ন গলি ও উপগলির অবস্থাও তথৈবচ। পুজোর সময় যখন রাস্তায় মানুষের ভিড় ও যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়, তখন এ ধরনের রাস্তা শুধু যাতায়াতের সমস্যা সৃষ্টি করে না, পথচারী ও যানবাহন চালকদের নিরাপত্তাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। সামান্য অসতর্কতা কিংবা যানবাহনের ভারসাম্য হারানোর ঘটনাও বড় বিপদের কারণ হয়ে ওঠতে পারে।
শিলচরের বাইরেও পরিস্থিতি যে খুব একটা আলাদা নয়, তা শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দির রাস্তার অবস্থা থেকেই স্পষ্ট। কয়েক মাস ধরে বেহাল রাস্তা ও জাতীয় সড়কের কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। শ্রীভূমি থেকে শিলচরে পৌঁছতে যেখানে তুলনামূলক কম সময় লাগার কথা, সেখানে জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশের দুরবস্থা, চলমান মেরামতির কাজ এবং যানজটের কারণে যাত্রীদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে কালাইন, কাটিগড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তাগুলির বেহাল দশাও জনজীবনকে বিপর্যস্ত করছে। অর্থাৎ, সমস্যা কেবল শহরের কয়েকটি রাস্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরাক উপত্যকার সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতাই এখানে প্রকট হয়ে উঠেছে।
প্রশ্ন হল, দুর্গাপুজোর মতো নির্ধারিত উৎসবের আগে রাস্তা সংস্কারে প্রশাসনের আগাম প্রস্তুতি থাকে না কেন? প্রতিবছর উৎসবের সময় মানুষের যাতায়াত বাড়বে, তা জানা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে মেরামতির উদ্যোগ কেন? পরিকল্পনার অভাব ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না।



