৮ অক্টোবর : বন্ধুদের সঙ্গে বসে মদ্যপান করছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পর সেই বন্ধুত্বই যে তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি অণীস। উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরের স্যোহারা এলাকায় মদ্যপানের আসর থেকে শুরু হওয়া বিবাদ শেষ পর্যন্ত গড়াল খুনে। পুলিশের দাবি, অণীসের কাছে টাকা রয়েছে এই সন্দেহেই তাঁর উপর চড়াও হয় বন্ধুরা।
কিন্তু খুনের পর পকেট হাতড়ে মিলল মাত্র ৮০ টাকা।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, অণীস কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে বসে মদ্যপান করছিলেন। সেই সময় কোনও একটি বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। কথাকাটাকাটি থেকে গালিগালাজ, তারপর পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই অণীসের কাছে টাকা রয়েছে বলে সন্দেহ করে অভিযুক্তরা তাঁর উপর চড়াও হয়। পুলিশের দাবি, হিমাংশু ও রাজা অণীসের হাত-পা চেপে ধরে। এরপর জসওয়িন্দর ওরফে হর্ষ ওরফে অঙ্গা বেল্ট দিয়ে তাঁর গলা টিপে ধরে। অভিযোগ, পরে একটি ধারালো সুঁচ দিয়ে অণীসের ঘাড়ে আঘাত করা হয়। শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় তাঁর। খুনের পর প্রমাণ লোপাটের চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ। অণীসের দেহ কুমহারপুরা গ্রামের কাছে রাজবাহের ধারে একটি আখের ক্ষেতে লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা যে পোশাক পরেছিল, সেগুলিও বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। যে টাকার আশায় অণীসকে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ, তাঁর পকেট থেকে শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায় মাত্র ৮০ টাকা। অর্থাৎ কয়েক হাজার বা কয়েক লক্ষ নয়, মাত্র ৮০ টাকার জন্যই বন্ধুকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ব্যবহৃত ধারালো সুঁচ নিয়েও সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, সেটি সাধারণত শিখদের পাগড়ি ঠিক করার কাজে ব্যবহৃত হয়। পাগড়ি থেকে বেরিয়ে থাকা ছোট চুল বা পাগড়ির কোনো অংশ আটকানোর জন্য ব্যবহৃত এই ধারালো সুঁচটি অনেক জায়গায় ‘বাজ’ নামেও পরিচিত। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ধারালো সুঁচ দিয়েই অণীসের ঘাড়ে আঘাত করা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, একটি বেল্ট উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি অণীসের স্প্লেন্ডার মোটরসাইকেলও উদ্ধার করেছে পুলিশ। অণীস নিখোঁজ হওয়ার পর ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর ভাই জামিল স্যোহারা থানায় নিখোঁজের অভিযোগ জানান। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে হিমাংশু ও রাজাকে গ্রেফতার করে। পরে তৃতীয় অভিযুক্ত জসওয়িন্দর ওরফে হর্ষ ওরফে অঙ্গাকেও গ্রেফতার করা হয়। এখন পুরো ঘটনার অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।




