সলগই জিপিতে একের পর এক অনিয়ম, সরব তিন ওয়ার্ড সদস্য

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২ অক্টোবর : সলগই গ্রাম পঞ্চায়েতের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন তিন ওয়ার্ড সদস্য। সরকারি অর্থের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ না করা, নির্বাচিত সদস্যদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় না করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, স্টেশনারি ক্রয়ের নামে অর্থ উত্তোলন করেও সামগ্রী সরবরাহ না করা এবং স্থানীয় বাজারের টেন্ডার থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের হিসাব প্রকাশ না করার অভিযোগ এনেছেন তাঁরা।

শুক্রবার লওয়াইরপোয়া ব্লকের বিডিও যুগান্তর কেঁওরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর মাধ্যমে জেলা কমিশনারের উদ্দেশ্যে স্মারকপত্র প্রদান করেন সলগই জিপির ২, ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রঞ্জিত তেলি, বাবলি রবিদাস ও মঙ্গল কেঁওট। স্মারকপত্রে পঞ্চায়েতের বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, নথিপত্র যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

তিন সদস্যের অভিযোগ, পঞ্চায়েত সভানেত্রী পল্লবী কানু দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত সদস্যদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা বা সমন্বয় ছাড়াই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, গত কয়েক মাসে বিভিন্ন ফান্ড থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় ও উত্তোলন করা হলেও তার বিস্তারিত হিসাব তাঁদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। গত ২৩ এপ্রিল লিখিতভাবে হিসাব চাওয়া হলেও এখনও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
বিশেষভাবে, ‘সন্ধ্যা এন্টারপ্রাইজ’-এর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পঞ্চায়েতের স্টেশনারি ক্রয়ের নামে ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৩০০ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। অথচ ওই অর্থের বিনিময়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়নি বলে দাবি। এ বিষয়ে ব্যাংক লেনদেন, বিল-ভাউচার, ক্রয়াদেশ ও স্টক রেজিস্টার যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় বাজারের টেন্ডার থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব ও ব্যয়ের হিসাব এবং পঞ্চায়েতের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের নথিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সদস্যরা।
অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। স্মারকপত্রের একটি প্রতিলিপি পাথারকান্দির বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে স্মারকপত্রে ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও প্রশাসনিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। এ বিষয়ে সলগই জিপির সভানেত্রী পল্লবী কানুর প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্ত ও নথিপত্র যাচাইয়ের পরই অভিযোগগুলির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে স্থানীয় মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *