বরাক তরঙ্গ, ২১ জুন : প্রিপেইড স্মার্ট মিটার চালুর তীব্র বিরোধিতা এবং বিদ্যুৎ খাতের বেসরকারিকরণের আশঙ্কা তুলে ধরে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করল অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশনের কাছাড় জেলা কো-অর্ডিনেশন কমিটি। শনিবার শিলচরের আশীর্বাদ বিবাহ ভবনে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ গ্রাহকদের এক অভিবর্তনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কো-অর্ডিনেশন কমিটির সভাপতি তথা আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. তপোধীর ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য শাখার উপদেষ্টা বিমল দাস এবং অন্যতম আহ্বায়ক অজয় আচার্য।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিমল দাস অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারিকরণের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ২০২২ সাল থেকে প্রিপেইড স্মার্ট মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্মার্ট মিটার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদও জোরদার হচ্ছে। বিদ্যুৎকে মানুষের মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি এই অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ পরিষেবাকে ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করার উদ্দেশ্যে ২০০৩ সালের বিদ্যুৎ আইন প্রণয়ন করা হয়। এর ফলে বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি সংস্থার প্রবেশের পথ সুগম হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। এপিডিসিএলের মুনাফার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান মাশুল বৃদ্ধিরও সমালোচনা করেন।
অন্যদিকে, অজয় আচার্য বলেন, দেশের বিভিন্ন পরিষেবা ক্ষেত্রের মতো বিদ্যুৎ ক্ষেত্রও কর্পোরেট সংস্থাগুলির নজরে পড়েছে। প্রিপেড স্মার্ট মিটার চালুর পেছনে বিদ্যুৎ খাতের বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে দাবি করে তিনি এর বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সভায় বিশিষ্ট আইনজীবী ধ্রুবকুমার সাহা, ডা. এম শান্তি কুমার সিংহ, সুকল্পা দত্ত, ঋষিকেশ দে, ফারুক লস্কর, শ্রমিক নেতা নির্মলকুমার দাস, আলতাফ হোসেন মজুমদার, মোহনলাল মালা, দিলোহার হুসেন লস্কর, সুনীত রঞ্জন দত্তসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন। মূল প্রস্তাব উত্থাপন করেন পরিতোষ ভট্টাচার্য।
গৃহীত প্রস্তাবে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মতো আসামেও প্রতি মাসে ন্যূনতম ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, প্রিপেইড স্মার্ট মিটার স্থাপন সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক করার, গ্রাহকদের উপর জোরপূর্বক স্মার্ট মিটার চাপিয়ে না দেওয়ার এবং বিদ্যুৎ ক্রয় সংক্রান্ত বিতর্কিত চুক্তি বাতিলের দাবি তোলা হয়।
অভিবর্তনে উপস্থিত গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ অবকাঠামোর আধুনিকীকরণ সম্পূর্ণ না করেই রাজ্যে জোরপূর্বক স্মার্ট মিটার বসানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অনিচ্ছুক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নোটিশও দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। কেন্দ্রীয় শক্তিমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তাঁরা বলেন, স্মার্ট মিটার সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক হওয়া সত্ত্বেও আসামে তা বাধ্যতামূলকভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সভায় প্রস্তাবিত দাবিগুলির সমর্থনে লাগাতার গণআন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংগঠনের অন্যতম আহ্বায়ক হিল্লোল ভট্টাচার্য প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য রাখেন এবং সভা পরিচালনা করেন অরিন্দম দেব।
অনুষ্ঠানে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে আগত অতিথি বিমল দাস ও অজয় আচার্যকে সংবর্ধনা জানানো হয়। এ সময় জয় দাসগুপ্ত ও হানিফ আহমদ লস্কর তাঁদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেন।
সভা শেষে সভাপতির ভাষণে ড. তপোধীর ভট্টাচার্য বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের আন্দোলনকে বৃহত্তর জনস্বার্থের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।



