গৌহাটি মেডিক্যালের সিএন সেন্টারে উত্তেজনা, রোগীর সঙ্গীদের মারধর

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৩০ এপ্রিল : আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (জিএমসিএইচ)। তবে এবার হাসপাতালের অন্তর্গত সিএন সেন্টার (হৃদয়, বক্ষ ও স্নায়ুবিজ্ঞান কেন্দ্র) ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সিএন সেন্টারে হঠাৎ এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের কর্মীদের বিরুদ্ধে রোগীর আত্মীয়কে মারধর করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু মারধরই নয়, রোগীর আত্মীয়ের মোবাইল ফোন ভেঙে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। লঙ্কা এলাকার এক দরিদ্র পরিবার উন্নত চিকিৎসার আশায় জিএমসিএইচের অত্যাধুনিক সিএন সেন্টারে এসে এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। পরিবারের অভিযোগ, পঙ্কজ বিশ্বাস নামের এক রোগীকে ডিফু মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে জিএমসিএইচে রেফার করা হয়। বুধবার রাতে সঙ্কটজনক অবস্থায় তাঁকে সিএন সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

রোগীকে ভর্তি করার পর পরিবারের লোকজনকে একাধিক পরীক্ষা করাতে বলা হয়। অভিযোগ, কাউন্টারে টাকা জমা দিতে দেরি হওয়ায় জিএমসিএইচের কর্মীরা অসভ্য আচরণ শুরু করে। পরিবারের দাবি, কর্মীরা শুধু দুর্ব্যবহারই করেননি, মারধরও করেছেন। এমনকি এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, রোগীকেও আক্রমণ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই হীরক দাস ও রাহুল আলি নামে দুই ট্রলি-পুলার রোগীর আত্মীয়ের মোবাইল ফোন ভেঙে দেন। পাশাপাশি, কর্মীরা নাকি হুমকি দেন—টাকা না থাকলে হাসপাতালে না আসার জন্য। এই ঘটনার জেরে রোগীর আত্মীয়রা ভাঙাগড় থানা়-এ চিকিৎসক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অন্যদিকে, গুরুতর অসুস্থ রোগীর অবস্থা দেখে সাংবাদিকরা বিষয়টি জিএমসিএইচের অধীক্ষককে জানান। এরপর অধীক্ষকের নির্দেশে পুলিশ তৎপর হয়। ভাঙাগড় থানার পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্যে রোগীর পুনরায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রলি-পুলার হীরক দাস ও রাহুল আলিকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশের এক সূত্র জানিয়েছে, “আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেই অনুযায়ী দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *