৯ জুলাই : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলায় ইরানের ৮ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে বন্দর আব্বাস ও বুশেহর এলাকায় চালানো এ হামলায় নিহতদের মধ্যে ইরানের বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘দুঃসাহসিকতার’ উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তিনি গালফ অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেলায়েতি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা ভঙ্গের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের মৌখিক সম্মতি পুরো অঞ্চলকে আবারও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চল কোনো রাজনৈতিক জুয়া খেলার জায়গা নয় এবং অতীতের মতো এবারও যেকোনো দুঃসাহসিকতার তাৎক্ষণিক ও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে ইরান।
হামলার পর বাহরাইনজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। রাজধানী মানামাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ দাবি করেছে, কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কেঁপে উঠেছে। একই সঙ্গে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর ওই ঘাঁটির একটি অংশ থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, উভয় পক্ষের দাবি ও পাল্টা দাবির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।



