বরাক তরঙ্গ, ২১ জুলাই : ১৯৬১ সালের ১৯ মে শিলচর ভাষা আন্দোলনের একাদশ বাংলা ভাষা শহিদকে অসম সরকারের পক্ষ থেকে ‘রাজ্য শহিদ’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উদ্দেশে স্মারকপত্র পেশ করেছে ‘একাদশ বাংলা ভাষা শহীদ স্বীকৃতি দাবি মঞ্চ’। মঙ্গলবার অতিরিক্ত জেলা কমিশনার (ডিডিসি) রাজীব রায়ের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকপত্রটি পাঠানো হয়। এর প্রতিলিপি সংস্কৃতি, স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দপ্তরের মন্ত্রী এবং মুখ্য সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
স্মারকপত্রে বলা হয়েছে, ১৯৬১ সালের ১৯ মে শিলচর রেলস্টেশনে বাংলা ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতে চলা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ১১ জন ভাষা সংগ্রামী শহীদ হন। এই আত্মত্যাগ শুধু বরাক উপত্যকার নয়, সমগ্র অসমের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। আন্দোলনটি কোনো ভাষা বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং ভাষাগত সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছিল বলে স্মারকপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনের দাবি, ভারতীয় সংবিধানের ৩৪৫ অনুচ্ছেদ এবং অসম সরকারি ভাষা আইন, ১৯৬০ (সংশোধিত)-এর ৫ নম্বর ধারার ভিত্তিতে ১৯ মে-র আত্মত্যাগের পরই বরাক উপত্যকায় প্রশাসনিক ও সরকারি কাজে বাংলা ভাষা আইনগত স্বীকৃতি লাভ করে। ফলে ভাষা শহীদদের অবদান রাজ্যের সাংবিধানিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
স্মারকপত্রে তথ্যের অধিকার আইন, ২০০৫-এর অধীনে প্রাপ্ত সরকারি তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ভাষা আন্দোলনের ১১ শহীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা বিচারাধীন অভিযোগের নথি নেই। সংগঠনের মতে, এই তথ্য তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিকে আরও শক্তিশালী করে।
স্মারকপত্রে শহিদ কমলা ভট্টাচার্য, কানাইলাল নিয়োগী, চণ্ডীচরণ সূত্রধর, হিতেশ বিশ্বাস, সত্যেন্দ্র দেব, কুমুদ রঞ্জন দাস, সুনীল সরকার, তরণী দেবনাথ, শচীন্দ্রচন্দ্র পাল, বীরেন্দ্র সূত্রধর ও সুকোমল পুরকায়স্থের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে অসম সরকারকে বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করে একাদশ ভাষা শহিদকে ‘রাজ্য শহিদ’ ঘোষণা, সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি এবং তাঁদের স্মৃতি সংরক্ষণে স্মারক, শিক্ষামূলক উদ্যোগ ও সরকারি পর্যায়ে যথাযোগ্যভাবে স্মরণ করার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকপত্রের সঙ্গে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক বিবরণ, শহিদদের তালিকা, অসম সরকারি ভাষা (সংশোধনী) আইন, ১৯৬১-এর প্রাসঙ্গিক অংশ, আরটিআই-এ প্রাপ্ত সরকারি উত্তর, তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী বিমলাপ্রসাদ চালিহার বিবৃতি, সমকালীন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক নথি সংযুক্ত করা হয়েছে।
স্মারকপত্রে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের সভাপতি আইনজীবী দিলিপ কুমার দাস, আইনজীবী রত্নাঙ্কুর ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদিকা অরুনদুতি গুপ্ত, অমলাভ দাস, তুহিনা শর্মা, রঞ্জু দেব, ধর্মানন্দ দেব, জ্যোতির্ময় নাথ, সৌমেন ভট্টাচার্য্য, শিখা নাথ, জিয়াউল হক লস্কর, আলি রাজা ওসমানি, শর্মীলা চক্রবর্তী, অলোকা দেবসহ অন্যান্য সদস্যরা। সংগঠনের আশা, রাজ্য সরকার দাবিটির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা প্রদান করবে।



