বিশ্বজিৎ রায়বর্মণ স্মারক পুরস্কার পেলেন দীপ দেব
বরাক তরঙ্গ, ২৫ অক্টোবর : সাংবাদিক বিশ্বজিৎ রায়বর্মণের সপ্তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে শিলচর প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে এক স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিলচরের ইলোরা হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘সামাজিক প্রগতি, রাজনীতি ও সংবাদমাধ্যম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মুক্ত ও দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমই রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সঠিক দিশা দেখানোর পাশাপাশি সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্য তুলে ধরে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করতে পারে। এদিন সাংবাদিকতায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দীপ দেবের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘বিশ্বজিৎ রায়বর্মণ স্মারক সাংবাদিকতা পুরস্কার’।
বিশ্বজিৎ রায়বর্মণের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তাঁর পুত্র বৈভব রায়বর্মণ ও কন্যা অনুষ্কা রায়বর্মণ শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। স্মৃতিচারণ পর্বে বক্তারা প্রয়াত সাংবাদিকের নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার কথা তুলে ধরে বলেন, তাঁর কর্মজীবন নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে চিরকাল প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। কবি ও লেখিকা আরতি দাশও আবেগঘন ভাষায় জামাতা বিশ্বজিৎ রায়বর্মণের স্মৃতিচারণ করেন।

আলোচনা সভায় উদ্যোগপতি ও সমাজকর্মী বাবুল রায় বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহি এবং সঠিক নীতির বাস্তবায়নই প্রকৃত সামাজিক অগ্রগতির পথ প্রশস্ত করে। স্বর্ণালী চৌধুরী সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনিক আধিকারিক ও রাজনৈতিক নেতাদের দূরত্ব কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
শিলচর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শংকর দে বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার রক্ষা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন সামাজিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সংবাদমাধ্যমকে সমাজ ও রাষ্ট্রের দর্পণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের বিশ্বজিৎ রায়বর্মণের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি রিতেন ভট্টাচার্য বলেন, সংবাদমাধ্যম ছাড়া গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না। সাংবাদিক চয়ন ভট্টাচার্য ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন মিলন লস্কর, শতদল আচার্য, দেবাশিস সোম ও দীপন ভট্টাচার্য।
অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কস্তুরী হোম চৌধুরী, জয়ন্তী দত্ত ও সুপ্রভা রাজকুমারী। সংগীত পরিবেশন করেন অনন্যা রায়বর্মণ, শর্মিষ্ঠা দাস চাকী, শ্রাবণী সরকার ও শান্তিকুমার ভট্টাচার্য।
পুরস্কারপ্রাপক দীপ দেবকে উত্তরীয়, পুষ্পস্তবক, সনদপত্র, স্মারক, অর্থরাশি ও কলম দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। সম্মাননা গ্রহণ করে তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁকে আগামী দিনে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে সাংবাদিকতা করতে অনুপ্রাণিত করবে। বিন্দু রায়ের স্মৃতিতে তাঁর পুত্র বাবুল রায় এই পুরস্কারের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। অনুষ্ঠান শেষ হয় রোহিতাক্ষ নাথের মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে।



