১৯ জুন : বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শক্তির প্রদর্শন করল স্বাগতিক কানাডা। একতরফা এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে নকআউট পর্বের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল তারা। ম্যাচের নায়ক ছিলেন জোনাথন ডেভিড, যিনি দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে দলের বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া একটি করে গোল করেন সাইল লারিন ও সালিবা, আর একটি গোল আসে আত্মঘাতী থেকে।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কানাডা। ম্যাচের প্রথম দিকেই গোলের সুযোগ তৈরি করে তারা। কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা জোনাথন ডেভিডের শট ঠেকালেও ফিরতি বলে গোল করতে ভুল করেননি সাইল লারিন। প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও গোল করে নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন এই ফরোয়ার্ড।
২৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জোনাথন ডেভিড। এরপর আরও বিপাকে পড়ে কাতার। কানাডার তেজন বুকানানকে ফাউল করায় প্রথমে পেনাল্টি দিলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলে ফ্রি-কিক দেন রেফারি। তবে হোমাম আহমেদকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় কাতার। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিরতির আগেই নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ডেভিড। প্রথমার্ধ শেষে ৩-০ গোলের স্বস্তিদায়ক লিড নিয়ে মাঠ ছাড়ে কানাডা।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে ম্যাচে ঘটে উদ্বেগজনক এক ঘটনা। কাতারের আসিম মাদিবুর কঠোর ট্যাকলে গুরুতর চোট পান কানাডার মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনে। যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকা কোনেকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে তার গোড়ালিতে গুরুতর চোটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনার জন্য মাদিবুকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে ম্যাচের বাকি সময় ৯ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় কাতার।
দুই খেলোয়াড় কমে যাওয়ার পর কাতার আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। বরং একের পর এক আক্রমণে তাদের রক্ষণভাগকে ভেঙে দেয় কানাডা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিনটি গোল করে স্বাগতিকরা। জোনাথন ডেভিড নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি আদায় করেন। একই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও তিনি শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাতারে উঠে আসেন।।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ৬-০ গোলের দাপুটে জয় নিশ্চিত করে কানাডা। এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করার পাশাপাশি শেষ ষোলোয় ওঠার সম্ভাবনাও প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে তারা।



