পশ্চিম গারো হিলসে উত্তেজনা: নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত ২

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১০ মার্চ : মেঘালয়ের পশ্চিম গারো হিলস জেলায় গারো হিলস স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ (GHADC) নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া ঘিরে উত্তেজনার জেরে মঙ্গলবার নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। সহিংস ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে গিয়েই এই গুলিচালনার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার চিবিনাং এলাকায় উপজাতি ও অ-উপজাতি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পশ্চিম গারো হিলসের পুলিশ সুপার আব্রাহাম টি সাংমা জানান, নিহত দু’জনই চিবিনাং এলাকার বাসিন্দা। অবৈধ জমায়েত ছত্রভঙ্গ করার সময়ই নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালাতে বাধ্য হয়।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। তবে সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে মঙ্গলবার পুরো দিনজুড়ে পশ্চিম গারো হিলস জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীও চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এর আগেই সোমবার রাতে মেঘালয় সরকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ১০ মার্চ থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। প্রশাসনের মতে, সামাজিক মাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানোর আশঙ্কা থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ভয়েস কল এবং এসএমএস পরিষেবা চালু রয়েছে।

এদিকে, পরিস্থিতি শান্ত করতে মঙ্গলবার তুরার সার্কিট হাউসে একটি শান্তি বৈঠকের আয়োজন করেছেন জেলার ডেপুটি কমিশনার বিভোর আগরওয়াল। বৈঠকে চার্চ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্থানীয় উন্নয়ন কমিটির সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, GHADC নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আগামী ১৬ মার্চ পর্যন্ত চলবে এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১০ এপ্রিল।
প্রসঙ্গত, সোমবার তুরায় ডেপুটি কমিশনারের দফতরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার সময় প্রাক্তন ফুলবাড়ি বিধায়ক এস্তামুর মোমিনকে বিক্ষোভকারীরা ঘিরে ধরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, অ-উপজাতিদের GHADC নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বা অংশগ্রহণ করার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *