বরাক সফরের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি বিডিএফের

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৮ মার্চ : আগামী ১৪ মার্চ বরাকে সফরে আসছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সফরের প্রাক্কালে বরাক উপত্যকার জ্বলন্ত সমস্যা গুলো সমাধানে আশু পদক্ষেপ নেবার আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে খোলা চিঠি পাঠালো বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।

এদিন বিডিএফ কার্যালয়ে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে অসমের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এবং দীর্ঘকাল ধরে অবহেলিত এই উপত্যকায় প্রধানমন্ত্রীর সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিনি এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ ও অগ্রিম স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি বলেন যে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নিয়ে ইতিমধ্যে এই উপত্যকায় বিশেষ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে এবং তাঁর আশা এই সফরে প্রধানমন্ত্রী কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও প্রকল্প ঘোষণা করবেন যার ফলে এই উপত্যকায় নতুন অগ্রগতি সূচিত হবে।

প্রদীপ দত্তরায় বলেন, মূলতঃ তিনটি সমস্যার জন্য এই উপত্যকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন থমকে দাড়িয়েছে। প্রথমতঃ এই উপত্যকার ভয়াবহ বেকার সমস্যার জন্য এলাকার মেধা এবং শ্রমের ক্রমাগত বহির্গমন চলছে। তিনি বলেন এখানে চার লক্ষের উপর রেজিস্ট্রিকৃত বেকার রয়েছেন,প্রকৃত সংখ্যা তার বহুগুণ হবে। স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে ছেলে মেয়েদের স্থানীয় কর্মসংস্থান হচ্ছে না। একই অবস্থা অদক্ষ ও স্বল্পশিক্ষিত বেকারদের ও।সংসার প্রতিপালনের জন্য হয় বহিরাজ্যে স্বল্প বেতনের চাকরি অথবা ই রিক্সা চালিয়ে তাঁরা সংসার প্রতিপালন করছেন। যাঁরা মেধাবী তাঁরা চাকরির খোঁজে বাইরে চলে যাচ্ছেন। তিনি বলেন এই সমস্যা সমাধানের জন্য উপত্যকার

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি পদ স্থানীয় প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষণের দাবি তাঁরা অনেকদিন ধরে জানিয়ে আসছেন। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি এবং অসম বিধানসভায় গৃহীত এই ধরনের সংরক্ষণের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও এখন অব্দি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি আরো বলেন যে পাঁচগ্রাম কাগজ কল সহ উপত্যকার সমস্ত সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি ক্ষেত্রেও নিয়োগের সুবিধা সীমিত। তিনি বলেন এই উপত্যকায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদ রয়েছে। এসবকে পরিকল্পিত ভাবে কাজে লাগিয়ে এখানে উদ্যোগ তৈরি হলে তাতে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে তেমনি সরকারি রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।

প্রদীপ দত্তরায় আরও বলেন, যোগাযোগ এই উপত্যকার দ্বিতীয় বৃহৎ সমস্যা। প্রতিবছর বর্ষাকালে স্থলপথ ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এই উপত্যকা বহির্ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তিনি এবারের সফরে বরাক উপত্যকা থেকে বরাপানি অব্দি এক্সপ্রেস হাইওয়ে প্রকল্পের শিলান্যাসের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়ে বলেন যে এর পাশাপাশি প্রস্তাবিত চন্দ্রনাথপুর লঙ্কা বিকল্প রেলপথের কাজও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ হওয়া জরুরি। এছাড়া বিগত কুড়ি বছর ধরে মহাসড়কের ডিমা হাসাও জেলার ৩০ কিমি অংশের কাজ শেষ হচ্ছে না।

বিডিএফ মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, বন্যা এই উপত্যকার আরেক বৃহৎ সমস্যা যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন এরজন্য বরাক নদী খনন জরুরী কারন দীর্ঘদিন পলি পড়ে নদীগর্ভ ভরাট হয়ে পড়েছে। এছাড়া ২০২২ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর শিলচর এবং করিমগঞ্জ শহরের খাল গুলির আমূল সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তাও অসমাপ্ত। জায়গায় জায়গায় ভেঙে পড়া নদীবাধ সমুহের সংস্কারের কাজও ঝুলন্ত বা অর্ধসমাপ্ত।

জয়দীপ এদিন আরও বলেন, বিজেপির শেষ ভিশন ডকুমেন্টে ডিব্রুগড় ও শিলচরে গৌহাটি হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চ স্থাপনের প্রস্তাব ছিল। ডিব্রুগড়ে এই ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেও শিলচরে এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া শিলচর রেলস্টেশনের ‘ভাষা শহিদ স্টেশন’ নামকরণ, যা উপত্যকার দীর্ঘদিনের দাবি তা শুধু রাজ্য সরকারের অবহেলায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলন্ত।

বিডিএফ সদস্যরা এদিন বলেন যে তাঁরা এইসব সমস্যা এই খোলা চিঠির প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে আসন্ন সফরে তার হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। চিঠির প্রতিলিপি অসমের দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। এদিনের সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেবায়ন দেব, হারাধন দত্ত ও নবারুণ দে চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *