রাজ্যসভায় মনোনয়ন জমা দিলেন নীতীশ

Spread the news

৫ মার্চ : দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিহারের কুর্সি সামলানোর পরে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন JDU সুপ্রিমো নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)। জল্পনা ছড়িয়েছিল, নীতীশকে রাজ্যসভার (Rajya Sabha) প্রার্থী করতে চলেছে BJP। সেই জল্পনাই সত্যি হলো। বৃহস্পতিবার নীতীশ রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দিয়েই নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ প্রসঙ্গে X হ্যান্ডলে পোস্ট করে তিনি জানিয়েছেন, রাজনীতির শুরু থেকেই তাঁর মনে একটি সুপ্ত ইচ্ছা ছিল। তিনি লোকসভা, রাজ্যসভা, বিধানসভা ও বিধান পরিষদের সদস্য হতে চেয়েছিলেন। রাজ্যসভায় গেলে তাঁর সেই ইচ্ছা পূর্ণ হবে। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিহারের রাজধানী পটনার সড়কে নেমেছিলেন জেডিইউ কর্মী-সমর্থকেরা। দলের রাজ্য দফতর ভাঙচুরের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সরকারি বাংলোর সামনেও বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। যদিও তাঁদের নিশানা সহযোগী দল বিজেপি। বিহারের মুখ্যমন্ত্রিত্ব কব্জা করার জন্যই বিজেপি নেতৃত্ব নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে রাজ্যসভায় পাঠানোর বন্দোবস্ত করেছেন বলে বিক্ষোভকারী জেডিইউ কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ।

জেডিইউ সমর্থকদের অভিযোগ সমর্থন করেছেন বিরোধী নেতারাও। বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদের পুত্র তেজস্বী যাদব বৃহস্পতিবার বলেন, ”মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত বিহারের জনমতের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। বিজেপি সবসময়ই দলিত ও ওবিসি (অনগ্রসর)-দের বিরোধিতা করেছে। নীতীশজি মুখ্যমন্ত্রিত্ব পদ ছেড়ে দিলে তারা (বিজেপি) সমাজবাদীদের দুর্গে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে।” বিধানসভা ভোটের চার মাসের মাথায় বিহারে মুখ্যমন্ত্রিত্ব বদলের ঘটনাকে মহারাষ্ট্রে শিবসেনা নেতা একনাথ শিন্দেকে সরিয়ে বিজেপির দেবেন্দ্র ফডণবীসকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর সঙ্গে তুলনা করেন তেজস্বী। সেই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘আমি আগেই বলেছিলাম — ‘নীতীশজিকে ঘোড়ায় তো বর বানিয়ে চড়ানো হয়েছে, কিন্তু বিয়ের ফেরা (সাতপাক ঘোরা) হচ্ছে অন্য কারও সঙ্গে।”

এ দিকে, নীতীশ কুমার ইস্তফা দিলেও তাঁর ছেলে নিশান্ত কুমারের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। জল্পনা রয়েছে যে, নতুন সরকারে নিশান্ত কুমার উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদ পেতে পারেন। নীতীশ কুমার স্পষ্ট করেছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়লেও নতুন সরকারের উপর তাঁর পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *