শিলচরে ভাবীকালের সপ্তরাজ রঙ্গ উৎসবের সূচনা

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৮ ফেব্রুয়ারি : এ বছর মোট ছয়টি দলকে নিয়ে শুরু হল শিলচরের ভাবীকাল আয়োজিত পঞ্চম ‘সপ্তরাজ রঙ্গ উৎসব’। প্রথম সন্ধ্যাতেই বহরমপুরের প্রান্তিক নাট্যদল মঞ্চস্থ করে তাদের প্রযোজনা ‘স্ত্রীর ই-পত্র’। উদ্বোধনী দিনেই নাটকটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং পরবর্তী দু’দিনও সময়মতো উপস্থিত থাকার আগ্রহ উসকে দেয়।

শনিবার সন্ধ্যা ঠিক সাড়ে ছ’টায় অতিথিদের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রথামাফিক প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অতিথিদের উত্তরীয় ও স্মারক প্রদান করে সম্মাননা জানানো হয়। এদিন শিলচরের বিশিষ্ট প্রবীণ কৌতুকাভিনেতা বিজয় খান-কে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়।

‘নাটকের শহর’ হিসেবে পরিচিত শিলচরের সীমিত অথচ নাটকপ্রেমী দর্শকদের উপস্থিতিতে সূচনা অনুষ্ঠান ভিন্ন মাত্রা পায় অতিথিদের বক্তব্যে। ভাবীকালের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক আসাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপক দেবাশিস ভট্টাচার্য শিলচরের সাংস্কৃতিক বিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ‘কবির শহর’ থেকে ‘থিয়েটারের শহর’ হয়ে ওঠার সাম্প্রতিক যাত্রাপথ তুলে ধরেন।

বিশিষ্ট অতিথি ‘সাময়িক প্রসঙ্গ’-এর সম্পাদক তৈমুর রাজা চৌধুরী শিলচরের নাট্য ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, ১৯০৪ সালে ভারতীয় ডাক বিভাগের কর্মীরা এখানে প্রথম নাটক মঞ্চস্থ করেন। তিনি বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের উদ্যোগে ‘এ মাসের নাটক’ কর্মসূচির প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলা নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র-এর ‘কমলেকামিনী’ নাটক শিলচরে মঞ্চস্থ হওয়ার ঐতিহাসিক উল্লেখ করেন এবং জানান, ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর সর্বশেষবারের মতো নাটকটি এখানে মঞ্চস্থ হয়। অতীতের ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি নতুন প্রজন্মের নাট্যচর্চার প্রশংসা করেন।

আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পারফর্মিং আর্টস বিভাগের অধ্যাপক মুরলি বাসা বলেন, থিয়েটার বৌদ্ধিক শুদ্ধতা ও সমন্বয়ের শিক্ষা দেয়। মহড়া থেকে মঞ্চ—সমস্ত প্রক্রিয়াই শিক্ষণীয়। তিনি সাংস্কৃতিক সততার পক্ষে সওয়াল করেন।

সংবর্ধিত প্রবীণ অভিনেতা বিজয় খান রসিকতার সুরে বলেন, “এটা ডেঞ্জার জোন”, তবে নিজেকে অভিনেতা নয়, নাট্যকর্মী বলেই পরিচয় দেন। ভাবীকালের দীর্ঘ ৪২ বছরের কর্মকাণ্ড ও নাট্য কর্মশালার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, দর্শক ছাড়া শিল্পী শূন্য।

বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কেন্দ্রীয় কর্মকরতা পরিতোষচন্দ্র দত্ত বলেন, নাটক সমাজের দর্পণ। বিভাজিত সমাজে সুস্থ মানসিকতা গড়ে তুলতে নাটকের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি নাট্যব্যক্তিত্ব বাদল সরকার-এর তৃতীয় ধারার নাটকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্বল্প ব্যয়ে প্রযোজনার দিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।

অধ্যাপক দেবাশিস ভট্টাচার্য তিন দিন নাটকের জন্য সময় দেওয়ার আবেদন জানিয়ে বলেন, ভাবীকালের সঙ্গে তিনটি কলেজের সমঝোতা চুক্তি হয়েছে এবং ইন্টার্নশিপ কর্মসূচিও চালু হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অংশ হিসেবে নাটককে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান। তাঁর কথায়, শিলচর এখন কেবল কবির শহর নয়, ক্রমশ থিয়েটারের শহর হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *