‘মোদিকে গালিগালাজ করেন…’, সংখ্যালঘু মহিলাদের কম্বল দিয়েও কেড়ে নিলেন বিজেপি নেতা! তুঙ্গে বিতর্ক

Spread the news

২৩ ফেব্রুয়ারি : রাজস্থানের টঙ্কে কম্বল বিতরণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চরম বিতর্ক ছড়াল। বিতরণ করার পর মুসলিম মহিলাদের কাছ থেকে কম্বল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সুখবীর সিং জৌনাপুরিয়ার বিরুদ্ধে (Rajasthan BJP Leader)। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই মহিলাদের ধর্মীয় পরিচয় জানার পরই তাঁদের থেকে কম্বল ফিরিয়ে নিচ্ছেন তিনি (Blanket distribution controversy)। এই ঘটনায় তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সুখবীর সিং জৌনাপুরিয়া একটি অনুষ্ঠানে দুঃস্থদের মধ্যে কম্বল বিলি করছিলেন। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলাদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়ার সময় তিনি এক মহিলার নাম জিজ্ঞাসা করেন। উত্তর শুনে তিনি বুঝতে পারেন ওই মহিলা মুসলিম। এরপরই মেজাজ হারিয়ে তিনি তাঁর সহযোগীদের নির্দেশ দেন ওই মহিলাকে কম্বল না দিতে।

নিজের এই আচরণের সপক্ষে জৌনাপুরিয়া বলেন, ‘যাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে গালিগালাজ করেন, তাঁদের কম্বল পাওয়ার কোনও অধিকার নেই। এতে কেউ কষ্ট পেলে আমার কিছু করার নেই।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষ সবসময় মোদি-বিরোধী মন্তব্য করেন এবং কোনোদিন বিজেপির র‍্যালিতে যোগ দেন না। যদিও তিনি দাবি করেন যে তাঁর কমিউনিটি কিচেনে তিনি কোনও বৈষম্য করেন না, তবে এই বিশেষ ক্ষেত্রে তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

বিজেপি নেতার এই আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে খালি হাতে ফিরতে হওয়ায় তাঁরা ওই নেতার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কোনও জবাব না দিয়েই ঘটনাস্থল ছাড়েন জৌনাপুরিয়া।

এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতে। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘বিজেপির এই প্রাক্তন সাংসদ আসলে সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। যারা গরীব মহিলাদের এভাবে অপমান করে, তাঁরাই আসলে মনের দিক থেকে দরিদ্র।’

রাজস্থানের এই ঘটনাটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল। ধর্মের ভিত্তিতে এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের দোহাই দিয়ে জনসেবামূলক কাজে এমন বৈষম্য কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *