‘বিন্নাকান্দির অরণ্যে ১৮৫৮’ গ্রন্থের প্রকাশ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৩ জানুয়ারি : কাছাড় জেলার বিন্নাকান্দিতে দুই পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হলো ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘বিন্নাকান্দির অরণ্যে ১৮৫৮’। সিপাহী বিদ্রোহ পরবর্তী এক বিস্মৃত অধ্যায়কে কেন্দ্র করে রচিত এই গ্রন্থের প্রকাশ অনুষ্ঠান ঘিরে দিনভর বিন্নাকান্দিতে ইতিহাসচর্চা ও স্মৃতির এক আবহ তৈরি হয়। সোমবার বিন্নাকান্দি দ্বিতীয় খণ্ডের সিঙেরবন্দে সিপাহী স্মৃতি রক্ষা কমিটি-র উদ্যোগে সিপাহী-শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো বইটির মোড়ক উন্মোচিত হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরাক উপত্যকার উন্নয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কৌশিক রায়, কমিটির সভাপতি ওয়াই মণি সিংহ, লেখক ও গবেষক আবিদ রাজা মজুমদার, আলিমুদ্দিন মজুমদার সহ বিপুল সংখ্যক স্থানীয় মানুষ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সাজিয়ে রাখা বাঁধানো সংঘর্ষস্থলের ও ভারতবর্ষের ম্যাপ-ছবিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়। উদ্যোক্তারা দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে যেভাবে নিবেদন করা হয় সেভাবে ফলমূল ধপদীপ জ্বালিয়ে রাখেন অনুষ্ঠান স্থলে। বিষয়টি বড়ই অভিনব। এরপর একই দিনে বিন্নাকান্দির জগাই মথুরা হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল-এ দ্বিতীয়বার বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের সভাগৃহ কানায় কানায় পূর্ণ ছিল ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের উপস্থিতিতে। স্কুলের অধ্যক্ষ শিল্পজিত পাল-এর সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক সৌরভ দাসের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবিদ রাজা মজুমদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি–সম্পাদক–প্রকাশক মিতা দাসপুরকায়স্থ। উপস্থিত ছিলেন লেখক জীষ্ণু দত্ত, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাসনা দাস, বরাকবঙ্গের লক্ষীপুর শাখার সভাপতি সাত্যকি দাস এবং লেখক আলিমুদ্দিন মজুমদার।

অনুষ্ঠানের সূচনায় স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। বিন্নাকান্দির অরণ্যে সিপাহী বিদ্রোহকালে সংঘটিত সংঘর্ষ ও তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন আবিদ রাজা মজুমদার ও জীষ্ণু দত্ত। গ্রন্থটির সম্পাদক মিতা দাসপুরকায়স্থ বইটি প্রকাশের প্রেক্ষাপট ও গবেষণাগত গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি স্বামী বিবেকানন্দের বাণী পাঠের পাশাপাশি তাঁকে নিবেদিত একটি স্বরচিত কবিতাও পাঠ করে শোনান। সত্যকি দাস স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও তার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পাঠ করে স্কুলছাত্রী সুহানি বাউরী। অধ্যক্ষ শিল্পজিত পাল তাঁর বক্তব্যে সিপাহী বিদ্রোহ, স্বামী বিবেকানন্দ এবং বিন্নাকান্দি-লক্ষীপুর অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বিন্নাকান্দির সংঘর্ষস্থলকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকার ও জনগণের কাছে আবেদন জানান এবং গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত তাঁর নিজস্ব নিবন্ধ পাঠ করে শোনান।

অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দু’টি অনুষ্ঠানই সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ‘নতুন দিগন্ত প্রকাশনী’ থেকে সদ্য প্রকাশিত গ্রন্থটিকে ঘিরে উভয় অনুষ্ঠানস্থলেই ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে বিন্নাকান্দি দ্বিতীয় খণ্ডের সিঙেরবন্দে বই কেনার জন্য পাঠকদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ ও ভিড় পরিলক্ষিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *