শিলচর সাই বিকাশ বিদ্যা নিকেতনের বার্ষিকী উদযাপনে সাংস্কৃতিক উৎসবের রঙিন আঙ্গিক

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১১ জানুয়ারি : প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও শনিবার শিলচর সাই বিকাশ বিদ্যা নিকেতনের বার্ষিকী উপলক্ষে স্কুল প্রাঙ্গণে সারাদিন ধরে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের বিজ্ঞান-শিল্প, হস্তশিল্প ও অর্কন প্রদর্শনী থেকে শুরু করে বিকেলের নৃত্য-সঙ্গীত পরিবেশন পর্যন্ত সবকিছু অতিথি ও অভিভাবকদের মুগ্ধ করেছে। স্কুল প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই ছাত্রছাত্রীদের তৈরি বিজ্ঞান-শিল্প প্রদর্শনী স্থাপিত হয়, যেখানে তাদের কৌতূহল, পরিশ্রম ও সৃজনশীলতা ফুটে উঠেছে। বিকেলে স্থায়ী মঞ্চে বিভিন্ন ধরনের নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশন করে শিক্ষার্থীরা সকলের মন জয় করে নেয়।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত মুখ্য অতিথিরা হিসেবে কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা কমিশনার অঞ্জলী কুমারী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মানবেন্দ্র দত্ত চৌধুরী, কাছাড় কলেজের অধ্যক্ষ অপ্রতিম নাগ, আসাম রাইফেলের সুবেদার মেজর পতিতকুমার পাণ্ডা, শিলচর টিটি কলেজের অধ্যাপক পিনাক পানি নাথ, বিশিষ্ট ক্রিড়াবিদ মৃণাল কান্তি রায় এবং কাছাড়ের মোটর ভেহিকল ইন্সপেক্টর ফিলিপসন তিস্সো উপস্থিত ছিলেন। স্কুলের পরিচালনা অধিকারী ড. পি শ্রীনিবাস রেড্ডি, প্রিন্সিপাল অরিভুক্কারাসু পান্ডিয়ান এবং ভাইস-প্রিন্সিপাল প্রীথা কে. এইচ.-এর উদ্যোগে উক্ত অতিথিদের গলায় উত্তরীয় ও হাতে স্মারক তুলে সম্মান জানানো হয়। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি সচারুভাবে পরিচালনা করেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও স্কুলের শিক্ষক উত্তম ঘোষ।

বক্তব্যে কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা কমিশনার অঞ্জলী কুমারী আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, “এই অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের হাসিখুশি মুখ এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের গর্বিত ভাব সবচেয়ে মনে রাখার মতো। বিজ্ঞান-শিল্প প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে তাদের কৌতূহল ও সৃজনশীলতা। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষাকে আনন্দময় করে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে।”রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মানবেন্দ্র দত্ত চৌধুরী এবং কাছাড় কলেজের অধ্যক্ষ অপ্রতিম নাগ উভয়েই ছাত্রছাত্রীদের নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, “নৈতিক শিক্ষা মানে ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত পার্থক্য করার ক্ষমতা অর্জন এবং সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধের মতো মূল্যবোধ আয়ত্ত করা, যা ব্যক্তি ও সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।” বিশিষ্ট ক্রিড়াবিদ মৃণাল কান্তি রায় পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর উপর জোর দেন।

এছাড়া কাছাড়ের মোটর ভেহিকল ইন্সপেক্টর ফিলিপসন তিস্সো, পরিচালনা অধিকারী ড. পি শ্রীনিবাস রেড্ডি, প্রিন্সিপাল অরিভুক্কারাসু পান্ডিয়ান এবং ভাইস-প্রিন্সিপাল প্রীথা কে. এইচ. বক্তব্য রাখেন।এই বার্ষিকী উদযাপন শিলচরের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *