
কেএ লস্কর, লক্ষীপুর।
বরাক তরঙ্গ, ৮ নভেম্বর : বাঁশকান্দির এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হল রবিবার। বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের বাঁশকান্দি আঞ্চলিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলা ভাষা সহ বিভিন্ন ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং বাঙালির ঐতিহ্যকে সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে গঠিত হল বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের ২১ সদস্য বিশিষ্ট বাঁশকান্দি আঞ্চলিক সমিতি। এই উপলক্ষে বাঁশকান্দি পাইওনিয়ার ইংলিশ স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদকে বিদ্যাপতি সিংহ। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং কেন্দ্রীয় দু’জন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এই অরাজনৈতিক সংগঠনের আঞ্চলিক সমিতি গঠন করা হয়েছে।

সভায় পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরাক বঙ্গের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অনিল পাল ও সাধারণ সম্পাদক মিলন উদ্দিন লস্কর। তাঁদের উপস্থিতিতে বাঁশকান্দি আঞ্চলিক কমিটি গঠন করা হয়। সমিতি গঠনের প্রক্রিয়া, নিয়মাবলী ও কমিটি গঠনের পরবর্তী দায়িত্ব পালন নিয়ে সংগঠনের নীতি নির্দেশিকা সভায় উপস্হাপন করেন দুজন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক যথাক্রমে অনিল পাল ও মিলন উদ্দিন লস্কর। বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন মূলতঃ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এই সংগঠনের ধারাবাহিক কিছু নীতি নিয়ম রয়েছে সেগুলো ব্যাখ্যা করেন তাঁরা।

বরাকবঙ্গের নবগঠিত বাঁশকান্দি আঞ্চলিক সমিতির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষক সাদিক মোহাম্মদ লস্কর এবং সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক কবীর আহমদ লস্কর। তিনজন উপসভাপতি মনোনীত হয়েছেন যথাক্রমে মাহমুদ হোসেন বড়ভূইয়া, কুতুব উদ্দিন লস্কর, উবাইদুর রহমান মজুমদার। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শুভদীপ দেব, প্রশাসনিক সম্পাদক হয়েছেন রূপালী রায়। কোষাধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন সামসুর রহমান লস্কর। সর্বমোট ২১ জন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী বরাকবঙ্গের সুসংগঠিত শাখা সমিতির মাধ্যমে আগামী দিনে বাঁশকান্দি অঞ্চলে নিয়মিত সাহিত্যসভা, কবি সম্মেলন, মাতৃভাষা চর্চা এবং নতুন প্রজন্মের মেধা অন্বেষণের মতো নানা সৃজনশীল কর্মসূচি গ্রহণ করতে নবগঠিত কমিটির সদস্যদের আহ্বান রাখেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।

সভায় বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন মণিপুরি মুসলিম ডেভলপমেন্ট অর্গেনাইজেশন আসাম এর সভাপতি আব্দুল নূর চৌধুরী, বিশিষ্ট লেখক সাংবাদিক আব্দুল শুক্কুর বড়ভূইয়া, কমরুল ইসলাম বড়ভূইয়া প্রমুখ। রাজনীতির উর্ধ্বে থেকে ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এই সভায়।
এদিনের সভা শেষে কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতালের সদ্যপ্রয়াত অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সমাজসেবী কল্যাণকুমার চক্রবর্তীর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপস্থিত সকলে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। কল্যাণকুমার চক্রবর্তীর প্রয়ানে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হবেনা বলে অভিমত ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।



