দীপাবলি ও শ্যামাপুজোর আনন্দে উৎসবের রঙে সেজে উঠেছে সীমান্ত জেলা শ্রীভূমি

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৮ নভেম্বর : অন্ধকারের বুকে আলোর বিজয়বার্তা নিয়ে আবারও ফিরে এসেছে আলোর উৎসব দীপাবলি। একই সঙ্গে জগজ্জননী মা শ্যামার আরাধনাকে কেন্দ্র করে উৎসবের আনন্দে মেতে উঠতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী জেলা শ্রীভূমি। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—জেলার সর্বত্র এখন কালীপুজো ও দীপাবলিকে ঘিরে উৎসবের আবহ। দৃষ্টিনন্দন পুজোমণ্ডপ, বর্ণিল আলোকসজ্জা এবং প্রতিমার সাজে নতুন রূপে সেজে উঠেছে জেলার বিভিন্ন জনপদ।

জেলা সদর শ্রীভূমি শহর থেকে শুরু করে পাথারকান্দি, রামকৃষ্ণনগর, উত্তর করিমগঞ্জ ও দক্ষিণ করিমগঞ্জ বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে কালীপুজো ও দীপাবলিকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, বাজার এলাকা, পাড়া-মহল্লা, চা-বাগান অধ্যুষিত অঞ্চল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল—সর্বত্রই চলছে উৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

বিভিন্ন কালীমন্দিরের পাশাপাশি স্থানীয় ক্লাব, যুবসংগঠন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে শ্যামাপুজো। কোথাও ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি মেনে দেবীর আরাধনার আয়োজন, আবার কোথাও আধুনিক থিম ও নান্দনিক মণ্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ পুজোমণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সন্ধ্যা নামতেই আলোর রোশনাইয়ে ঝলমল করে উঠবে জেলার বিভিন্ন জনপদ।

উৎসবকে কেন্দ্র করে শুধু পুজোমণ্ডপেই নয়, বাজার-হাটেও দেখা যাচ্ছে ব্যাপক ব্যস্ততা। নতুন পোশাক, মিষ্টি, ফুল, পুজোর সামগ্রী, প্রদীপ, মোমবাতি ও রঙিন আলোর সরঞ্জাম কিনতে দোকানে দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। বাড়িঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা থেকে শুরু করে আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা—সব মিলিয়ে উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত জেলার প্রতিটি পরিবার।

এদিকে, উৎসবের আনন্দ যাতে কোনওভাবেই অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণে ম্লান না হয়, সেজন্য বিশেষ সতর্ক রয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, জনবহুল এলাকা, পুজোমণ্ডপ এবং সংবেদনশীল অঞ্চলগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যানজট মোকাবিলা, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী জেলার ভৌগোলিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তাদেরও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি প্রত্যেকেই যেন দায়িত্বশীল নাগরিকের ভূমিকা পালন করেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক ঐক্য বজায় রেখে মা শ্যামার আরাধনায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারে কান না দিয়ে প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *