মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শিলচর মেডিক্যাল কলেজে ওয়ান হেলথ কনক্লেভ

Spread the news

দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৫ নভেম্বর : মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্যের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এই তিন ক্ষেত্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হলো ‘রিজিওনাল ওয়ান হেলথ কনক্লেভ ফর ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’। শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (এনসিডিসি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে চিকিৎসা, পশুচিকিৎসা, মাইক্রোবায়োলজি ও পরিবেশ বিজ্ঞানের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অসমের ডিরেক্টর অফ মেডিক্যাল এডুকেশন, এনসিডিসি-র জয়েন্ট ডিরেক্টর ডাঃ শুভা গর্গ, আইসিএমআর-এর প্রাক্তন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী তথা আরএমআরসি ডিব্রুগড়ের প্রাক্তন অধিকর্তা ডাঃ জে মহন্ত-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।

কনক্লেভে ওয়ান হেলথ কর্মসূচির অগ্রগতি, বহুবিভাগীয় গবেষণা, মহামারি মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হওয়া জিউনোটিক রোগের বিস্তার ও প্রতিরোধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কলকাতার আইপিজিএমইআর ও এসএসকেএম হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ চিত্রিতা চ্যাটার্জি এবং এআইআইএমএস কল্যাণীর অতিরিক্ত অধ্যাপক ডাঃ ননিকা রাজকুমারী তাঁদের বক্তব্যে ওয়ান হেলথের প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় এই সমন্বিত ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ফ্রম পার্সপেক্টিভ অব ওয়ান হেলথ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা। এতে চিকিৎসা, মাইক্রোবায়োলজি, পশুচিকিৎসা, বন ও পরিবেশ বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, জীবাণুর ওষুধ-প্রতিরোধী ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য। শুধু মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, প্রাণীস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষার প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, সংক্রামক রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য মহামারির ঝুঁকি কমাতে ওয়ান হেলথের মতো সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে সম্মেলনে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *