বরাক তরঙ্গ, ৩ নভেম্বর : ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার বক্সনগরের আশাবাড়িতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আটজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, সোমবার কলমচৌড়া থানার অন্তর্গত আশাবাড়ি এলাকায় বক্সনগর-রহিমপুর সড়কে বিএসএফের ৪৯তম ব্যাটালিয়নের জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ব্যাটালিয়নের সহকারী কমান্ড্যান্ট তথা কোম্পানি কমান্ডার রোহিত কুমারসহ একাধিক জওয়ান আহত হন। পাশাপাশি হামলাকারীরা বিএসএফের একটি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা বিএসএফের একটি দল আশাবাড়ি বর্ডার আউটপোস্ট ও স্থানীয় পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিল। সেই সময় হেফজুর রহমান নামে এক স্থানীয় ব্যক্তি ঝোপঝাড় পরিষ্কারের আড়ালে সীমান্তের নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। বিএসএফ জওয়ানরা তাঁকে বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন সন্দেহভাজন চোরাকারবারি এবং তাঁদের মদতপুষ্ট কিছু লোকজন একত্রিত হয়ে বক্সনগর-রহিমপুর সড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান সহকারী কমান্ড্যান্ট রোহিত কুমারসহ অতিরিক্ত বিএসএফ জওয়ানরা। কিন্তু উত্তেজিত জনতার একাংশ তাঁদের উপর হামলা চালায় এবং সরকারি গাড়িতে ভাঙচুর করে।

এই হামলায় রোহিত কুমার, গাড়িচালক সুনীল কুমার এবং জওয়ান মনজিতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।
এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর উপর এ ধরনের হামলার ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছে প্রশাসন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের সন্ধানেও তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।


