বরাক তরঙ্গ, ১ নভেম্বর : ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল দক্ষিণ অসম প্রান্তের মহিলা প্রকোষ্ঠের তত্ত্বাবধানে গত ৩১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় শিলচর অম্বিকাপট্টির ভক্তিধাম সভাকক্ষে নিবেদিতা জয়ন্তী পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল দক্ষিণ অসম প্রান্তের সভাপতি তথা গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায়। মুখ্য বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পয়লাপুল নেহেরু কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপিকা তথা রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির নগর বৌদ্ধিক প্রমুখ ও শিক্ষণ মন্ডলের সদস্যা মমতা চক্রবর্তী। প্রদীপ প্রজ্বলন ও দীপ ও জ্যোতি মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তারপর উপস্থিত সকলে একে একে ভগিনী নিবেদিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ নিবেদন করেন। সভাপতিকে উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নেন ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডলের কাছাড় জেলা বিভাগের সম্পাদক ড. বিশ্ববিজয় ভট্টাচার্য। মুখ্যবক্তাকে বরণ করেন জনতা কলেজের দর্শণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তথা ভারতীয় শিক্ষণ মন্ডল কাছাড় জেলার সদস্যা অধ্যাপিকা সোমা ভট্টাচার্য। ভগিনী নিবেদিতার উপর দ্বৈত কন্ঠে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির ছাত্রাবাসের ছাত্রী শতশ্রী ও দেবশ্রী।

অনুষ্ঠানে ভগিনী নিবেদিতার জীবনের সর্বাঙ্গীণ রূপ ফুটে ওঠে বিভিন্ন বক্তাদের মূল্যবান বক্তব্যে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তথা ভারতীয় শিক্ষণ মন্ডলের সদস্য অধ্যাপক দেবতোষ চক্রবর্তী, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক অনুপকুমার দে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, উদাত্ত জীবনধারা, সামাজিক সেবা প্রকল্প, সাহিত্যিক ও বৈজ্ঞানিক কর্মক্ষেত্রে ভগিনী নিবেদিতার অনবদ্য অবদানের কথা বক্তব্যে উঠে আসে। সমাজের সামগ্রিক কল্যাণে নিজেকে নিঃশেষে বিলিয়ে দেওয়ার অপর নাম ভগিনী নিবেদিতা। মুখ্য বক্তার দীর্ঘ আলোচনায় ভগিনী নিবেদিতার জীবন ও কর্মযজ্ঞের অনবদ্য প্রকাশ ঘটে। উনার আলোচনার শিরোনাম ছিল “নিবেদিতার ভারত, ভারতের নিবেদিতা”। সমগ্র বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী সন্ন্যাসী ভারত-বিবেক স্বামী বিবেকানন্দ। ভারত জননীর চরণে তার শ্রেষ্ঠ উপহার ভগিনী নিবেদিতা। তিনি বলেন ভগিনী নিবেদিতা, লোকমাতা নিবেদিতা আপন সেবা ধর্মে, মমতায়, ত্যাগে সমস্ত ভারতবাসীর হৃদয়ে চির প্রতিষ্ঠিতা যিনি তাঁর সমস্ত চিন্তা চেতনা ও জীবন দিয়ে গুরু আজ্ঞা পালন করেছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় বলেন নিবেদিতার আদর্শকে নব প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া ভারতীয় শিক্ষণ মন্ডলের অন্যতম মহৎ লক্ষ্য। ভারতীয় হিসেবে ভগিনী নিবেদিতাকে যতটুকু হৃদয়ঙ্গম করা প্রয়োজন স্বাধীনতা উত্তর ভারতবর্ষে সে প্রয়াস আশানুরূপ নয়।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির বিভিন্ন পদাধিকারীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অলকা দেব, স্নিগ্ধা দাস, রমা চক্রবর্তী, মীরা দাস প্রমুখ। শিক্ষণ মণ্ডলের তরফ থেকে উপস্থিত ছিলেন কাছাড় জেলা সভাপতি ড. অভিজিৎ সাহা, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপিকা সুপর্ণা রায়, জনতা কলেজের ড. রুমি দাস। উপস্থিত ছিলেন শিলচর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ডঃ সুজিত তেওয়ারি, শিলচর বার অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাডভোকেট পঞ্চমী নাথ, বড়খলা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ড. মৌসনা নাথ, ভারতীয় ইতিহাস সংকলন কাছাড় জেলা সমিতির কোষাধক্ষ্য তারাশঙ্কর গোস্বামী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কাবেরী নাগ, ড. ভৃগু রাজখোয়া, ড. শঙ্খু পাল প্রমুখ। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভারতীয় শিক্ষণ মন্ডল দক্ষিণ আসাম প্রান্তের মহিলা প্রমুখ ড. মুন্নি দেব মজুমদার। ধন্যবাদ জ্ঞাপণ করেন বড়খলা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের ড. রূপশ্রী পাল। শান্তি মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।



