
বরাক তরঙ্গ, ১ নভেম্বর : জলের সঙ্গে রং ও সুগন্ধি মিশিয়েই তৈরি হচ্ছিল ফিনাইল! অন্যদিকে, সস্তার পাউডারের সঙ্গে বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল ব্লিচিং পাউডার। এরপর নামী-দামি কোম্পানির মোড়কে সেসব সামগ্রী বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল। এমনই এক নকল পণ্য তৈরির কারখানার সন্ধান পেল পুলিশ। রবিবার শিলচরের রামনগরের চিরকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ফিনাইল, ব্লিচিং পাউডার, টয়লেট ক্লিনার-সহ বিভিন্ন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি কারখানার মালিক আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী (৪০)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর নিজের বাড়িতেই গড়ে উঠেছিল এই নকল পণ্য তৈরির কারখানা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার সিনিয়র পুলিশ সুপার পার্থপ্রতিম দাসের নেতৃত্বে তারাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শুভজিৎ দত্ত-সহ পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। তদন্তে জানা গেছে, কোনও ধরনের সরকারি লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এই কারবার।
অভিযানে কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ ফিনাইল, ব্লিচিং পাউডার, টয়লেট ক্লিনার এবং বিভিন্ন রাসায়নিক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশের এক সূত্র জানিয়েছেন, কারখানায় উৎপাদিত এই ভেজাল সামগ্রী কোথায় কোথায় সরবরাহ ও বিক্রি করা হতো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারখানার মালিক আব্দুল কুদ্দুসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের সন্ধান চালানো হচ্ছে। এই কারবারের পিছনে আরও একাধিক ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে বলে পুলিশের সন্দেহ।

এদিকে, নকল কারখানার সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পণ্যের প্যাকেটগুলি দেখে প্রাথমিকভাবে আসল নামী কোম্পানির প্যাকেটের সঙ্গে পার্থক্য নির্ণয় করাও কঠিন বলে জানা গেছে। পুলিশের অনুমান, এই কারবারের সঙ্গে পেশাদার কোনও চক্র জড়িত থাকতে পারে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু জানাতে চাইছে না পুলিশ। ঘটনার পেছনে থাকা পুরো চক্রের সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



