কর্ণাটকে নিখোঁজ অসমের তরুণীর কঙ্কাল উদ্ধার, প্রেমঘটিত বিরোধে খুনের সন্দেহ পুলিশের, আটক হাইলাকান্দির যুবক

Spread the news

১ নভেম্বর : চার মাস আগে কাজের সন্ধানে কর্ণাটকে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া অসমের ২১ বছর বয়সি তরুণী সুমি দাসের কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে বেঙ্গালুরুর কাছে একটি পাহাড় থেকে। প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছে পুলিশ। এই ঘটনায় হাইলাকান্দি জেলার বাসিন্দা বিশাল দাস নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মৃত সুমি দাস তামুলপুর জেলার হরিণাচোরা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা দূর করতে কর্মসংস্থানের আশায় তিনি কর্ণাটকে পাড়ি দিয়েছিলেন। সেখানে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন তিনি। প্রায় চার মাস আগে আচমকাই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে কুমারিকাটা থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ হাইলাকান্দির বাসিন্দা বিশাল দাসকে গ্রেফতার করে। তিনিও কর্ণাটকে কর্মরত ছিলেন। অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমারিকাটা থানার পুলিশ তাঁকে সঙ্গে নিয়ে বেঙ্গালুরুর বান্নেরঘাট্টা এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে একটি পাহাড় থেকে সুমির কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। খুনের অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ ইতিমধ্যে তামুলপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। পরিবারের হাতে তা তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সুমির বোনের বক্তব্য, চার মাস আগেও পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তাঁর। পরে তাঁরা জানতে পারেন, বিশাল দাস নামে এক যুবকের সঙ্গে থাকছেন সুমি। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও সদুত্তর পাননি তাঁরা। শেষ পর্যন্ত তাঁদের বাবা পুলিশের দ্বারস্থ হন। এরপরই সামনে আসে সুমির মৃত্যুর ঘটনা। তাঁর বোনের অভিযোগ, কাজের সন্ধানে অসমের বাইরে যাওয়া মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমশ উদ্বেগ বাড়ছে। সুমি হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সুমির বাবা জানান, পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণেই মেয়েকে অসমের বাইরে কাজ করতে যেতে হয়েছিল। মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তাঁরা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। সম্প্রতি তাঁর মৃত্যুর খবর পান তাঁরা।

অন্যদিকে, সুমির ভাইয়ের অভিযোগ, বিশাল দাস ফোন করে তাঁদের জানিয়েছিলেন যে সুমি তাঁর সঙ্গে রয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশের দ্বারস্থ হলে দু’জনেই আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। তবে পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছে যান। পরে তাঁরা জানতে পারেন, সুমিকে পাহাড়ের খাড়া অংশ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

এই ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি গ্রামবাসীরাও। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *