
বরাক তরঙ্গ, ৩১ অক্টোবর : দুর্গাপূজায় শ্রীভূমির প্রতিমা বিসর্জনযাত্রাকাণ্ডে কুড়িজন জেলবন্দীর খোঁজ নিল বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন। শনিবার দুপুরে বরাকবঙ্গের শ্রীভূমি জেলা সমিতির এক প্রতিনিধিদল সেখানকার জেলা কারাগারে ছুটে গিয়ে বন্দীদের খোঁজখবর নেয়। ভাসানযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুই দল যুবকের মধ্যে বিসর্জনঘাটের অদূরে ঘটে মারপিটের ঘটনা। হিন্দুস্থান ক্লাবের পদাধিকারীরা সে মারপিটে জড়িত না থাকলেও তাঁদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে মারপিটের ঘটনার দায় বর্তায়।২৩ অক্টোবরের ভাসানযাত্রায় প্রশাসনিক অনুমতি ছিল না।এতে আরও ব্যাকফুটে চলে যায় হিন্দুস্থান ক্লাব। আদরকোণার বিহুশিল্পীরা হিন্দুস্থান ক্লাবের ওপর মামলা করে দেয়। এতে পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় চালায়। প্রথম দফায় তের চৌদ্দজনকে গ্রেফতার করে বেধড়ক মারপিট করে পুলিশ।

বরাকবঙ্গের শ্রীভূমি জেলা সমিতির প্রতিনিধিদল প্রথম দফায় গত মঙ্গলবার জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাত করে। কেন্দ্রীয় সমিতির সহসভাপতি সুবীর রায়চৌধুরী, জেলা সমিতির সভাপতি সুবীরবরণ রায়, সহসভাপতি মাশুক আহমদ, সম্পাদক নন্দকিশোর বণিক প্রমুখ এসএসপি লীনা দোলের সঙ্গে কথা বলেন। ধৃতদের পুলিশি নিপীড়ন বন্ধের আর্জি জানান বরাকবঙ্গের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।এতে পরবর্তী পর্যায়ে সুফল পাওয়া যায়।
এদিকে, প্রথম দফায় ধৃতরা আদালতে জামিনে মুক্তি লাভ করলেও পুলিশের বেধড়ক পিটুনিতে প্রায় সবাই শয্যাশায়ী, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্হ্য পরিষেবার সুযোগ নিচ্ছেন আহত শয্যাশায়ীরা।অন্যদিকে,দ্বিতীয় দফায় আরও প্রায় কুড়িজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয় জেলহাজতে। এদিন সেই জেলবন্দীদের খোঁজখবর নেয় বরাকবঙ্গ। বন্দীদের খোঁজখবর নিতে গিয়ে জানানো হয় যে শীঘ্র তাদের মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।দিসপুর থেকে শ্রীভূমি জেলাসদর সর্বত্র তাদের বিষয়ে ইতিবাচক চর্চা হচ্ছে। আদালত জামিন মঞ্জুর করলে শীঘ্রই মুক্তি পেতে পারেন জেলবন্দীরা। জেলবন্দীদের খোঁজখবর নিতে যাওয়া বরাকবঙ্গের এদিনের প্রতিনিধিদলে ছিলেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সুবীর রায়চৌধুরী, শ্রীভূমির জেলা সভাপতি সুবীরবরণ রায়, সহসভাপতি মাশুক আহমদ, সম্পাদক নন্দকিশোর বণিক, শহর সমিতির সম্পাদক নিলজকান্তি দাস, জেলা সমিতির কোষাধ্যক্ষ অমৃতলাল বণিক, অনিরুদ্ধ চৌধুরী প্রমুখ। জেলবন্দী জুয়েলের সঙ্গে কথা বলেন বরাকবঙ্গের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। বন্দীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে বলেন তাঁরা। আদালতে তোলার সঙ্গে সঙ্গে জামিনের তৎপরতায় পরিবারের সঙ্গে সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। জানানো হয়, সে ইস্যুতে গতকাল জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপারের সঙ্গে বিশদ আলোচনা করেছেন বরাকবঙ্গের কর্মকর্তারা। সিনিয়র পুলিশসুপার দোলে সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের তরফে যাবতীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।দিসপুর থেকে পাওয়া যাচ্ছে সবুজ সংকেত। জেলাপ্রশাসন ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। বিচার বিভাগ সদয় হলে সব জেলবন্দীর জামিন লাভের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। সে বিষয়ে বিধায়ক কমলাক্ষ দেপুরকাস্থ সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলা হচ্ছে বলেও জানানো হয়। সংগঠনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সব্যসাচী রায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলবন্দীদের মুক্তির বিষয়ে যাবতীয় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

এদিকে, বরাকবঙ্গের প্রতিনিধিদলটি জেলবন্দীদের বিষয়ে জেলসুপারের সঙ্গে সাক্ষাত করে কথা বলতে চাইলেও অনুমতি দেওয়া হয়নি। অপরাহ্নের দিকে গিয়ে সাক্ষাত করা যাবে কি না সে অনুরোধ বারবার করলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।জেল কর্তৃপক্ষের সে অগণতান্ত্রিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বরাকবঙ্গের শ্রীভূমি জেলা সমিতি।



