
বরাক তরঙ্গ, ৩১ অক্টোবর : জুয়ার আসর বসানোকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ধলাই সমজেলার বড়জালেঙ্গা পূর্ব গাঁও পঞ্চায়েতের ১৬ নম্বর বস্তিতে। শুক্রবার রাতে সংঘটিত এই ঘটনায় আসাম পুলিশ ব্যাটালিয়নে কর্মরত এক পুলিশকর্মী ও তাঁর দাদার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আহত স্থানীয় যুবক সমরেশ দাশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ধলাই থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এলাকায় জুয়ার আসরের প্রতিবাদ করায় সমরেশ দাশকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর করেন পুলিশকর্মী রিপন দাস ও তাঁর বড়ভাই স্বপন দাস। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি।
ঘটনায় অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় সমাজকর্মী তথা হিন্দুত্ববাদী নেতা অমলেন্দু দাশ। তিনি ধলাই সমজেলার সিডিএসপি প্রদীপ কোঁওর এবং ধলাই থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সোমেশ্বর কোঁওরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অমলেন্দু দাশের অভিযোগ, রিপন দাস কয়েক দিন অন্তর ছুটিতে বাড়িতে এসে এলাকার যুবকদের প্রলোভিত করে জুয়ার আসর বসান। পুলিশকর্মী হওয়ার পরিচয় ও খাকি উর্দির প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হবে না বলে তিনি দাবি করেন বলে অভিযোগ।
অমলেন্দু দাশ আরও বলেন, একসময় আর্থিক অনটনের কারণে গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছিল রিপন দাসকে। পরবর্তীতে সরকারি চাকরি পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সরকারি চাকরির পরিচয় কখনও আইনবিরুদ্ধ কাজের ঢাল হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, ওই এলাকায় জুয়ার আসরের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি মদের অবৈধ কারবার এবং তীর খেলার রমরমা ব্যবসা চলছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন অমলেন্দু দাশ। তাঁর দাবি, এসব অসামাজিক কর্মকাণ্ডের ফলে এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যুবসমাজ বিপথে পরিচালিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
তাই শুধু মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই চলবে না, জুয়া, অবৈধ মদ ও তীর খেলার বিরুদ্ধেও পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে দাবি জানান তিনি। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যুবসমাজকে বিপথগামিতার হাত থেকে রক্ষা করতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকর্মী অমলেন্দু দাশ।
তবে বিপক্ষের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



