
মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৩০ অক্টোবর : বরাক উপত্যকায় বিকল্প বাণিজ্যিক কৃষির প্রসার এবং কৃষকদের আয়ের নতুন উৎস তৈরির লক্ষ্যে পাম অয়েল চাষে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে অসম সরকার। আগামী পাঁচ বছরে রাজ্যে দুই লক্ষ পাম অয়েল গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার পাথারকান্দির পুতনি চা বাগানে অবস্থিত পাম অয়েল নার্সারি পরিদর্শন করেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা।
তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অসম সরকারের মন্ত্রী তথা পাথারকান্দির বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল এবং রামকৃষ্ণনগরের বিধায়ক বিজয় মালাকার-সহ প্রশাসনিক আধিকারিক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা।
জাতীয় ভোজ্যতেল মিশন–পাম অয়েল (এনএমইও-ওপি)-এর অধীনে গডরেজ অ্যাগ্রোভেট লিমিটেডের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা নার্সারির পরিকাঠামো, চারা উৎপাদন এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখেন মন্ত্রীরা। পুতনি চা বাগানে ইতিমধ্যে ১৮ হাজার পাম অয়েল গাছ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, চলতি বছরে ৩০ হাজার চারা উৎপাদনের লক্ষ্যে নার্সারি গড়ে তোলা হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা জানান, সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে পাম অয়েল চাষ কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি আয়ের সুযোগ করে দিতে পারে। রোপণের প্রায় তিন বছর পর গাছে ফলন শুরু হয়। এক বিঘা জমিতে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫টি গাছ লাগানোর পাশাপাশি ফাঁকা জমিতে কলা, আদা ও হলুদের মতো আন্তঃফসল চাষ করেও অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব।

মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, সরকারি উদ্যোগ, বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা এবং কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বরাক উপত্যকায় পাম অয়েল চাষের প্রসার ঘটানো সম্ভব। এতে কৃষিক্ষেত্রে বহুমুখীকরণের পাশাপাশি ভোজ্যতেল উৎপাদনে অসমের স্বনির্ভরতার পথ আরও প্রশস্ত হবে।
পরিদর্শন শেষে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রীরা। প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি বিকল্প বাণিজ্যিক চাষে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ আগামী দিনে শ্রীভূমি-সহ সমগ্র বরাক উপত্যকার গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।



