
৩০ অক্টোবর : ভয়াবহ পরিস্থিতি। ভুটানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গাসা জেলায় শিনতাফু হ্রদের জল উপচে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ইতিমধ্যেই। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই বিপর্যয়ের জেরে মো ছু নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায়। যার প্রভাব পড়েছে ভুটানের একাধিক এলাকায়। পাশাপাশি সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতেও
জানা গিয়েছে, বন্যার জেরে গাসা জেলার জনপ্রিয় প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ গাসা ছাচুর সমস্ত পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধুয়ে মুছে গিয়েছে। তবে আগে থেকেই এলাকাটি খালি করে দেওয়ায় জেরে এখনও পর্যন্ত কোনওরকম প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ভুটানের ১৭টি বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদের মধ্যে অন্যতম শিনতাফু হ্রদ। এই হ্রদ থেকেই মো ছু নদীর উৎপত্তি। ইতিমধ্যেই বন্যার জল পুনাখা জং থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে স্রিগাং এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অসমের ধুবড়ি এবং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোচবিহার প্রশাসনের তরফেও সংকোশ নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং সমস্ত উদ্ধারকারী সংস্থা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। বন্যায় ভুটানের পুনাখা জেলার একটি সৌরচালিত সেচ প্রকল্প আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পুনাখা-গাসা জাতীয় সড়কের একটি অংশে বন্যার জলে বয়ে আসা ধ্বংসাবশেষ জমে যান চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিপুল পরিমাণ জল বেরিয়ে এলে তাকে গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা গ্লফ বলা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।



