বরাক তরঙ্গ, ২৯ অক্টোবর: শ্রীভূমিতে তৃতীয় দশমীর দিন দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে আমন্ত্রিত বিহু দলের শিল্পীদের ওপর হামলার অভিযোগে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বরাক উপত্যকা মাতৃভাষা সুরক্ষা সমিতির শ্রীভূমি জেলা সমিতি। একই সঙ্গে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাষিক বিভাজন সৃষ্টি, নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি এবং বরাক উপত্যকার বাঙালিদের বাংলাদেশি বলে অপমান করার অভিযোগেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
এক বিবৃতিতে সমিতির জেলা সম্পাদক নন্দন কুমার নাথ বলেন, অপরাধের বিচার কখনও ভাষা বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে হওয়া উচিত নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নির্দোষ কাউকে যেন অন্যায়ভাবে হয়রানি করা না হয়, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, কোনও ব্যক্তিগত বিবাদকে কেন্দ্র করে বাঙালি ও অসমিয়া ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস ও বিদ্বেষ ছড়ানো অনভিপ্রেত। বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক অটুট রাখতে সকলকে সংযম ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে সমিতি।
এদিকে, বঙাইগাঁওয়ে শিলচরের এক টেট শিক্ষিকা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে সংগঠনটি। ভাষিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বিদেশি বলে অপমান করা নাগরিক মর্যাদা ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করা হয়।
সমিতির পক্ষ থেকে অসমের মুখ্যমন্ত্রী, শ্রীভূমির জেলা আয়ুক্ত এবং জেলা জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপারের কাছে হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি এবং নির্দোষ নাগরিকদের সুরক্ষা—দুটিই ন্যায়বিচারের অপরিহার্য শর্ত। ভাষার নামে বিদ্বেষ নয়, বরং নিরপেক্ষ বিচার, নাগরিকের মর্যাদা ও বরাক-ব্রহ্মপুত্রের সম্প্রীতি বজায় রাখাই হোক সকলের লক্ষ্য।



