শ্রীভূমির বিসর্জন-কাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি নেতাজি ছাত্র যুব সংস্থার

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৯ অক্টোবর : শ্রীভূমিতে বিজয়া দশমীর তৃতীয় দিনে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার শ্রীভূমি সফর করল আশ্বাস এনজিও ও নেতাজি ছাত্র যুব সংস্থার একটি যৌথ প্রতিনিধিদল। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, নির্দোষ যুবকদের মুক্তি এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন নেতাজি ছাত্র যুব সংস্থার কার্যকরী পরিচালক দিলু দাস, সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ননী গোপাল দেব, আশ্বাস এনজিওর সভানেত্রী অরুন্ধতী গুপ্ত, সাধারণ সম্পাদিকা অলকা দেব এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক চয়ন ভট্টাচার্য।

শ্রীভূমি সফরকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং ক্লাব হিন্দুস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের বক্তব্য ও অভিজ্ঞতা শোনার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন তাঁরা।

পরবর্তীতে প্রতিনিধিদলটি শ্রীভূমির সিনিয়র পুলিশ সুপার লীনা দোলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি আটক যুবকদের মধ্যে নির্দোষ ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য জনসমক্ষে তুলে ধরার আহ্বান জানান তাঁরা।

প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে উভয় পক্ষের যাঁরা প্রকৃতপক্ষে জড়িত এবং যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোনও নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা যেন শাস্তি এড়াতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে নেতাজি ছাত্র যুব সংস্থার কার্যকরী পরিচালক দিলু দাস বলেন, কোনও ঘটনার বিচার ভাষা, জাতিগত পরিচয় কিংবা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হওয়া উচিত নয়। নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে রক্ষা করাও প্রশাসনের দায়িত্ব।

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা শ্রীভূমিতে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক বিভাজন ও পারস্পরিক অবিশ্বাস বৃদ্ধি না করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা জরুরি।

বিসর্জন-কাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটিত হবে, নির্দোষ ব্যক্তিরা ন্যায়বিচার পাবেন এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা আইন অনুযায়ী শাস্তি পাবেন—এমনই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *