শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ অক্টোবর : নদী ভাঙনের ক্রমবর্ধমান সমস্যায় বিপর্যস্ত বড়খলা সমষ্টির বুড়িবাইল জিপির গণিরগ্রাম দ্বিতীয় খণ্ড এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের জেরে একের পর এক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বহু পরিবার। এই পরিস্থিতিতে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন বড়খলার বিধায়ক কিশোর নাথ। মঙ্গলবার বড়খলা সদর সার্কল ও কাটিগড়া সার্কলের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি গণিরগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দুর্ভোগ ও দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা শোনেন বিধায়ক।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যেই বহু পরিবার নিজেদের বসতভিটে হারিয়েছেন। ভাঙনের আশঙ্কায় আরও অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিধায়ক কিশোর নাথ ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্যার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আনা এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কবে থেকে কার্যকর প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, গণিরগ্রামের কিছু অংশ কাটিগড়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নদীভাঙন মোকাবিলায় দুই এলাকার প্রশাসনিক আধিকারিকদের মধ্যে সমন্বয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়িয়ে দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে অবশিষ্ট বসতভিটে রক্ষা করা যায় এবং বিপন্ন পরিবারগুলির জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত থাকে। দীর্ঘদিনের এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে এখন দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় গণিরগ্রামের ভাঙন কবলিত মানুষ।



