মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ অক্টোবর : রাজ্যের প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারের কাছে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন ও দীর্ঘস্থায়ী জল সরবরাহ নিশ্চিত করতে জল জীবন মিশন ২.০-র অধীনে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। সাধারণ মানুষের কাছে পানীয় জল সরবরাহ করাকে এক মহান পুণ্যের কাজ হিসেবে অভিহিত করে তিনি এই পরিষেবা সুনিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
এদিকে, জল জীবন মিশন ২.০ এবং স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ) ২.০-র কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত দুদিনের রাজ্যস্তরের কর্মশালায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিষেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক কর্মশালায় উঠে আসে।

কর্মশালার অন্যতম আকর্ষণ ছিল জল জীবন মিশন এবং স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ)-এর অধীনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনকারী জেলাগুলিকে পুরস্কৃত করার অনুষ্ঠান। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিষ্ঠা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, কর্মতৎপরতা এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ উভয় প্রকল্পের অধীনে তিনটি করে কৃতিত্বপূর্ণ জেলাকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অন্যান্য জেলাগুলিকেও প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে আরও উৎসাহিত করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের বিশেষ সচিব ছয়দিয়ন আব্বাসী, বিভাগীয় সচিব তথা জল জীবন মিশনের মিশন ডিরেক্টর কৈলাশ কার্তিক এন, অতিরিক্ত মিশন ডিরেক্টর তথা বিভাগের সচিব গীতিমণি ফুকন, মুখ্য অভিযন্তা (পানীয় জল) ভাস্কর জ্যোতি শর্মা, মুখ্য অভিযন্তা (স্যানিটেশন) রম্য জ্যোতি শর্মা, অসম রাজ্য গ্রামীণ জীবিকা অভিযানের মুখ্য পরিচালন আধিকারিক ড. হিমাদ্রী কোঁচ এবং অসম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য মহাপ্রবন্ধক দীপেন মরল।

এছাড়াও জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের বিভিন্ন সার্কলের অতিরিক্ত মুখ্য অভিযন্তা, জেলা পরিষদগুলির মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক, অধীক্ষক অভিযন্তা, জল জীবন মিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলার কার্যনির্বাহী অভিযন্তারা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, জল জীবন মিশন ২.০ এবং স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ) ২.০-র মাধ্যমে গ্রামীণ অসমে পানীয় জল সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারের কাছে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে দীর্ঘস্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন থাকে, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কর্মশালায় গৃহীত আলোচনা, সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রামীণ অসমের জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জল জীবন মিশন ২.০-র সফল বাস্তবায়ন রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।



