নাগাখালে বাইক চুরির ঘটনায় তিন যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয়রা

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৩ অক্টোবর : কাছাড় জেলার পূর্ব ধলাইয়ের নাগাখালে বাইক চুরির ঘটনায় তিন যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন ভিডিপি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ধৃতরা হল নাগাখালের আলম হোসেন লস্কর, শিলচরের কনকপুরের সেলিম উদ্দিন এবং বাঁশকান্দির বুরহান উদ্দিন চৌধুরী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৭ অক্টোবর রাতে নাগাখাল গ্রামের বাসিন্দা তথা ভিডিপি সম্পাদক শাহারুল ইসলাম লস্করের বাড়ি থেকে এএস ১১ ভি ৭৯৩৪ নম্বরের একটি পালসার বাইক চুরি হয়। পরদিন, ১৮ অক্টোবর, এ বিষয়ে পালংঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এরপর থেকেই চুরি যাওয়া বাইকের সন্ধানে তৎপর হয়ে ওঠেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সূত্রের খবর, গত ২১ অক্টোবর গ্রামের এক যুবককে আরও দুই যুবকের সঙ্গে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। পরে তাঁদের আটক করে ভিডিপি সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। ভিডিপি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের কাছ থেকে একটি মাস্টার চাবি উদ্ধার করেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, আটক যুবকদের মধ্যে একজনের মোবাইল ফোনের ডিলিটেড ফাইলে চুরি যাওয়া বাইকের ছবি দেখতে পাওয়া যায় বলেও জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই তিন যুবক বাইক চুরির ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এরপর তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা যায়নি।

এদিকে, নাগাখাল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মন্দিরের সামগ্রী ও গবাদিপশু চুরির একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘটনার পিছনে স্থানীয় ও বহিরাগত কয়েকজনের যোগসাজশ থাকতে পারে। মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় আটক তিন যুবক ছাড়াও স্থানীয় আরও এক যুবকের জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, নাগাখাল ও সংলগ্ন এলাকায় মাদকদ্রব্যের কারবার এবং মাদক সেবনের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের মতে, চুরির ঘটনাগুলির পাশাপাশি মাদকসংক্রান্ত অভিযোগগুলিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে চুরির ঘটনাগুলির সঙ্গে মাদকের কোনও প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

একের পর এক চুরির ঘটনায় রাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, চুরির ঘটনাগুলির সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি মাদকদ্রব্যের কারবার সংক্রান্ত অভিযোগও খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পুলিশের তদন্তে নাগাখাল ও পার্শ্ববর্তী এলাকার চুরির ঘটনাগুলির নেপথ্য কারণ সামনে আসবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *