তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, মৃত অন্তত ১৮, আহত ৩২

Spread the news

২৩ অক্টোবর : চিনের তিব্বতের পার্বত্য অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। বৃহস্পতিবার রাতে তিব্বতের নাগচু অঞ্চলের বাৎসেন কাউন্টিতে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানিয়েছে চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া। বিবিসি সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।

সিনহুয়া স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের জেরে বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ধসে পড়েছে অন্তত ৩৩৯টি বাড়ি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে প্রশাসন। বিপর্যয় মোকাবিলা ও আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে উদ্ধারকারী দল।

তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত বাৎসেন কাউন্টি। এলাকাটি দুর্গম ও উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় উদ্ধারকাজে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে কর্মীদের। ভূমিকম্পের জেরে বিভিন্ন জায়গায় পাথরধসের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে উদ্ধারকারী দলগুলির পক্ষে।

এদিকে, ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন তিব্বতের কামদো ও নিংচি শহরেও অনুভূত হয়েছে। কম্পনের আতঙ্কে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, গভীর রাতে প্রবলভাবে কাঁপছে ভবনগুলি। আতঙ্কিত গ্রামবাসীদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাস্তায় নেমে আসতেও দেখা যায় ওই ভিডিওগুলিতে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে। ধসে পড়া বাড়ির নিচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালানোই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *