মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২২ অক্টোবর : পাঁচ দিনের আনন্দ, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পর অবশেষে লঙ্গাই নদীর জলে প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে আবেগঘন পরিবেশে শেষ হলো বৃহত্তর পাথারকান্দির শারদীয় দুর্গোৎসব। বুধবার বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় থানা সংলগ্ন লঙ্গাই নদীর বিসর্জন ঘাটে একের পর এক প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি এবং ‘আসছে বছর আবার হবে’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। দেবী দুর্গার বিদায়বেলায় ভক্তদের চোখে ছিল বিষাদের ছায়া, পাশাপাশি আগামী বছর আবারও মায়ের আগমনের প্রতীক্ষা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর পাথারকান্দি সার্কেলের অধীনে ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক বারোয়ারি দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত প্রতিটি দিনই উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন সর্বস্তরের মানুষ। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি—সর্বত্রই নজর কাড়ে বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা ও মণ্ডপসজ্জা।
বিজয়া দশমীর সকালে বিভিন্ন মণ্ডপে বিশেষ পুজো-অর্চনা, সিঁদুরদান ও সিঁদুরখেলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর সন্ধ্যায় ঢাক-ঢোল ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমাগুলি নিয়ে আসা হয় লঙ্গাই নদীর বিসর্জন ঘাটে। নিরঞ্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সেখানে মোতায়েন রাখা হয় এসডিআরএফ, অগ্নিনির্বাপক বাহিনী ও স্বাস্থ্য পরিষেবার কর্মীদের।

বিসর্জন পর্বে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন সার্কেল অফিসার অদিতি নুনিসা এবং পাথারকান্দি থানার ইন্সপেক্টর তথা ওসি। প্রশাসন, পুলিশ ও পুজো উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক সহযোগিতায় দুই শতাধিক পুজোর প্রতিমা নিরঞ্জন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, শিববাড়ি সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির উদ্যোগে দশমাথাযুক্ত রাবণ বধের অনুষ্ঠানও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। প্রতীকী এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির জাগরণের বার্তা তুলে ধরা হয়।
সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ব্যতিক্রমী মণ্ডপসজ্জা ও সম্প্রীতির আবহে এবারের শারদোৎসব পাথারকান্দিতে স্মরণীয় হয়ে রইল। লঙ্গাই নদীর জলে প্রতিমা নিরঞ্জনের সঙ্গে শেষ হলো উৎসবের আনুষ্ঠানিক পর্ব। তবে ভক্তদের হৃদয়ে রয়ে গেল মায়ের আগমনের স্মৃতি আর সেই চিরন্তন প্রত্যাশা—‘আসছে বছর আবার হবে।’



