বরাক তরঙ্গ, ২২ অক্টোবর : গুয়াহাটির অ্যাপার্টমেন্টে তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড়। শেষ নোটে অনেক বিস্ফোরক তথ্য উদ্ধার করেছে দিশপুর পুলিশ। ২০ অক্টোবরের দিন পুলিশ ঘরের ভেতর থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ডলির মৃতদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি বিশেষ নোটও উদ্ধার করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্বনাথ দাস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, বিশ্বনাথ দাস পশ্চিমবঙ্গের একজন বিবাহিত পুরুষ। তিনি ICICI-এর বিমা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ডলি এবং বিশ্বনাথের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকার প্রমাণ পেয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের উদ্ধার করা শেষ নোটটিকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে। নোটটিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। মৃত্যুর আগে বিশ্বনাথ দাসের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে গেছেন ওই তরুণী।
ডলির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিবারের লোকজন পুলিশের কাছে এজাহার (এফআইআর) দায়ের করেন। এজাহারের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ বিশ্বনাথ দাসকে গ্রেফতার করে।

উল্লেখ্য, গুয়াহাটি মহানগরের হেঙেরাবারীর নেহা অ্যাপার্টমেন্টের একটি ভাড়া ঘর থেকে ডলি বৈশ্য নামে ওই তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। বিশ্বনাথ দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর ডলিকে প্রতারণা করেছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে শেষবারের মতো ডলি তাঁর বড় বোনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। রবিবার গুয়াহাটি থেকে শুয়ালকুছির বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল ওই তরুণীর। কিন্তু নির্ধারিত দিনে তিনি বাড়িতে না যাওয়ায় পরিবারের লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়েন।
পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করলেও ডলির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। রবিবারের পর সোমবারেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় পরিবারের লোকজনের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। এর পরেই পরিবারের লোকজন গুয়াহাটিতে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্রাঞ্চের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ডলির বোনের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রাঞ্চ থেকে একজন ব্যক্তি ডলির ঘরের দিকে যাওয়ার কথা তাঁরা জানতে পেরেছিলেন। পরে ঘরটি বন্ধ থাকার খবর পাওয়ার পর পরিবারের লোকজন গুয়াহাটিতে এসে পৌঁছান।



