মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২০ অক্টোবর : শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দঘন পরিবেশে গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে তুলে ধরল ঐতিহাসিক যাত্রাপালা ‘নিহত গোলাম’। মহাষ্টমীর রাতে খাসপুরের ঐতিহাসিক ডিমাসা রাজবাড়ির পাশে শিবরবন্দ বাগান দুর্গাপূজা কমিটির উদ্যোগে গত ১৯ অক্টোবর আয়োজিত হয় এই মনোজ্ঞ যাত্রানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। পাঁচ শতাধিক দর্শকের উপস্থিতিতে যাত্রার আসর হয়ে ওঠে এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্র। রাত ১০টায় শুরু হয় যাত্রাপালার মঞ্চায়ন। মঞ্চের আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা, বাদ্যযন্ত্রের সুর, শিল্পীদের বলিষ্ঠ সংলাপ এবং সাবলীল অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে।

যাত্রাপালার প্রতিটি দৃশ্য উপভোগ করতে গভীর রাত পর্যন্ত দর্শকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। শরতের রাতের শীতল আবহাওয়াও দর্শকদের উৎসাহে কোনও ভাটা ফেলতে পারেনি। যাত্রাদলের ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন মনোরঞ্জন দাস। প্রম্পটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নিবাস দাস। মঞ্চ ও গ্রিনরুমের মধ্যে সমন্বয় রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান শিক্ষক ও সাহিত্যিক শৈলেন দাস। সাজসজ্জার দায়িত্বে ছিলেন বিবেক আচার্য। যন্ত্রসংগীতে সহযোগিতা করেন দিবাকর তাঁতি ও অরুণাল দাস।
উল্লেখ্য, আধুনিক প্রযুক্তি, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসারের ফলে মানুষের বিনোদনের জগতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। ডিজিটাল বিনোদনের জনপ্রিয়তা বাড়লেও গ্রামীণ সমাজে যাত্রাশিল্পের আবেদন যে আজও অমলিন, খাসপুরের এই অনুষ্ঠান তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যাত্রা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গ্রামীণ মানুষের আবেগ, অনুভূতি, জীবনবোধ এবং দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যাত্রাশিল্প মানুষের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বন্ধনকে দৃঢ় করে আসছে। সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই শিবরবন্দ বাগান দুর্গাপূজা কমিটির এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
সব মিলিয়ে, মহাষ্টমীর রাতে ‘নিহত গোলাম’-এর সফল মঞ্চায়ন দর্শকদের নির্মল বিনোদনের পাশাপাশি গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছে। দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও বিপুল উৎসাহ প্রমাণ করে, আধুনিকতার প্রবল স্রোতের মধ্যেও মাটির টানে গড়ে ওঠা যাত্রাশিল্পের প্রতি মানুষের ভালোবাসা আজও গভীর ও অটুট। লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম বাহক এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।




