বরাক তরঙ্গ, ২০ অক্টোবর : অসমে সরকারি জমি ও বনাঞ্চলের অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বেদখল হয়ে থাকা বিপুল পরিমাণ জমি উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছিলেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সেই নির্দেশের ভিত্তিতে প্রশাসন বিভিন্ন জেলায় সরকারি জমি ও বনাঞ্চলে অবৈধভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে উচ্ছেদ করে।
উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ পরিবারই ধর্মীয় ও ভাষিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বলে জানা গেছে। এই অভিযানকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে আসছে। বিভিন্ন পক্ষ উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছে। তবে সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের সরানোর বিষয়ে অনড় রাজ্য সরকার।

দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরও বেদখল উচ্ছেদের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সেই নির্দেশের পরেই ফের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে তিনটি জেলায় অভিযান চালিয়ে ৬৩৮ হেক্টরেরও বেশি জমি উদ্ধার করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অসমের স্বার্থ সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এই অভিযানে ৬৩৮ হেক্টরেরও বেশি জমি বেদখলমুক্ত করা হয়েছে।”
গত সপ্তাহে তিনটি জেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযানে সংরক্ষিত এলাকা থেকে প্রায় এক হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
গত শনিবার উরিয়ামঘাটের দক্ষিণ নামবর বনাঞ্চলের অন্তর্গত গেলাজানে উচ্ছেদ অভিযান চালায় প্রশাসন। অভিযানে ১২টি পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়। প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারগুলি বনাঞ্চলের জমি দখল করে বসবাস করছিল।
গেলাজান ছাড়াও গোলাঘাট জেলার আরও দুটি স্থানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। দয়াং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নেঘেরিবিল এবং ৩ নম্বর রাজা পুখুরিতেও বন বিভাগ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়।



