দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৯ অক্টোবর : প্রায় ১৮০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য, পারিবারিক পরম্পরা ও ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে এবারও শিলচরের অম্বিকাপট্টিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পাল চৌধুরী পরিবারের দুর্গাপূজা। সময়ের সঙ্গে পুজোর ঠিকানা বদলালেও অটুট রয়েছে পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য, নিষ্ঠা ও ভক্তি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই পারিবারিক দুর্গোৎসব আজও সমান ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালিত হচ্ছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮০ বছর আগে অবিভক্ত ভারত তথা বর্তমান বাংলাদেশের চাঁদপুর অঞ্চলে এই দুর্গাপূজার সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে নানা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পরিবারের আদি নিবাস থেকে পুজো এসে পৌঁছায় শিলচরে। বর্তমানে শিলচরে বসবাসকারী পাল চৌধুরী পরিবারের সদস্যরা সযত্নে সেই প্রাচীন ঐতিহ্য ও ধর্মীয় পরম্পরা বজায় রেখে চলেছেন।
জানা যায়, গত প্রায় ৩৮ বছর ধরে শিলচরে পরিবারের সদস্যরা একত্রিতভাবে এই দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছেন। প্রতি বছর পারিবারিক রীতি ও নিয়ম মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন হয় পুজোর যাবতীয় আচার-অনুষ্ঠান। মহাষ্টমী ও মহানবমী উপলক্ষে ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণেরও ব্যবস্থা করা হয়। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি এই পুজো পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করে তুলেছে।
মহাষ্টমীর দিন পুজোমণ্ডপে উপস্থিত ভক্তরা জানান, শিলচরের প্রাচীন পারিবারিক দুর্গাপূজাগুলির মধ্যে পাল চৌধুরী পরিবারের পুজো বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। দীর্ঘদিন ধরে প্রাচীন রীতিনীতি ও পারিবারিক পরম্পরা মেনে এই পুজোর আয়োজন একে স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছে।

পরিবারের বর্তমান প্রজন্মও এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে বিশেষভাবে উদ্যোগী। পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া ধর্মীয় পরম্পরা অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের মধ্যে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও পারিবারিক মূল্যবোধ জাগিয়ে রাখাই এই দুর্গোৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রণব পাল চৌধুরী সমগ্র অঞ্চলবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।
এদিন উপস্থিত ছিলেন শ্রীপা পাল চৌধুরী, দেবাশীষ পাল চৌধুরী, সুপর্ণা পাল চৌধুরী-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।



