১৮ অক্টোবর : উৎসবের আলো নিমেষেই মিলিয়ে গিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় নামল গভীর অন্ধকারের ছায়া। কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড় এবং আচমকা তৈরি হওয়া হুড়োহুড়ির জেরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। এই দুঃখজনক তালিকায় রয়েছে ৭ বছরের এক শিশু সহ আঠারো বছরের কম বয়সি একাধিক কিশোর-কিশোরীও।
শনিবার হঠাৎ শুরু হওয়া বৃষ্টি এবং তীব্র যানজটের জেরে জল এড়াতে মণ্ডপের ভেতর ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন অনেকে। সেইসময় চরম বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। তারপরই পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের। রাতভর সেখানে চিকিৎসার পর রবিবার সকালে এগারো জন বাড়ি ফিরলেও বাকি ১৪ জন আহতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোরে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং বর্তমানে তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে শহরের অন্যান্য নামী পুজো কমিটিগুলিও, যাঁদের একাংশ ইতিমধ্যেই দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন। নিরাপত্তার কড়াকড়ি বাড়াতে মাঠে নেমেছে পুলিশ এবং এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে আটক করে শুরু হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদ। ঠিক কী কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হলো, মণ্ডপের প্রবেশ ও বাহির পথ কিংবা ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকের মতে, ঠিক সন্ধ্যা সাতটা চল্লিশ মিনিট নাগাদ মাইকে বিশেষ কোনো ঘোষণার পরেই হুড়োহুড়ি চরমে ওঠে এবং অনেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বিপর্যয়ের জেরে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান যে, থিমের আড়ম্বরের চেয়ে মানুষের প্রাণ অনেক বেশি মূল্যবান, তাই ভবিষ্যতে প্রশাসন ও দমকলের নির্দেশিকা মেনেই মণ্ডপসজ্জা করা উচিত। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রতিটি পরিবারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা এবং পরিবারের একজনের সরকারি চাকরির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্বও রাজ্য সরকার বহন করবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রের তরফেও মৃতদের পরিবার পিছু দুই লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে। এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও প্রশাসন চরম তৎপরতা বজায় রেখেছে এবং আগামী দিনগুলিতে শহরজুড়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



