
মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৭ অক্টোবর : শিউলির স্নিগ্ধ সুবাস, ঢাকের ছন্দময় বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখরিত শারদীয় দুর্গোৎসবের আবহে মহাসপ্তমীর পুণ্যলগ্নে দেবী দুর্গার আরাধনায় সামিল হলেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী তথা পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল। শনিবার নিজের শহর শ্রীভূমির শহরতলিতে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো মণ্ডপে সপরিবারে উপস্থিত হয়ে দেবী দুর্গার চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
মহাসপ্তমীর পবিত্র মুহূর্তে যথাযথ ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে দেবী দুর্গার আরাধনায় অংশ নেন মন্ত্রী। পূজামণ্ডপে পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণ, ঢাকের বাদ্যি এবং ভক্তদের জয়ধ্বনিতে সৃষ্টি হয় এক ভক্তিময় পরিবেশ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করে প্রার্থনায় মগ্ন হন কৃষ্ণেন্দু পাল। তাঁর এই উপস্থিতিতে পূজামণ্ডপের উৎসবমুখর পরিবেশে বিশেষ মাত্রা যোগ হয়।

দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা জানিয়ে মন্ত্রী সর্বস্তরের মানুষের সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। সমাজের প্রতিটি স্তরে সম্প্রীতি, সৌভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় হোক, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবন থেকে দুঃখ-দুর্দশা ও অশান্তি দূর হয়ে সমাজে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা হোক—এটাই ছিল তাঁর প্রার্থনার মূল বার্তা।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, মা দুর্গার আশীর্বাদে প্রতিটি পরিবার আনন্দ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠবে। সমাজ থেকে সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্প্রীতির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে। উৎসবের এই পবিত্র সময়ে সকলের জীবনে নতুন আশার আলো ছড়িয়ে পড়ুক বলেও কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, দুর্গোৎসব বাঙালির কাছে কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, আবেগ ও সামাজিক মিলনের এক অনন্য উৎসব। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে এই উৎসবে শামিল হন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। পূজামণ্ডপগুলিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ।
মহাসপ্তমীর পুণ্যলগ্নে নিজের শহর শ্রীভূমিতে সপরিবারে দেবী দুর্গার আরাধনায় অংশ নিয়ে সেই উৎসবের আবেগ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে একাত্ম হলেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। তাঁর প্রার্থনায় উঠে এল শান্তি, মানবিকতা ও সর্বজনীন কল্যাণের বার্তা। মা দুর্গার আশীর্বাদে সকলের জীবন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক—এই কামনাতেই দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন তিনি। জয় মা দুর্গা!



