দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৬ অক্টোবর : শিলচর টাউন ক্লাবের ময়দানে শুক্রবার সাংস্কৃতিক ন্যাস পরিচালিত শ্রীশ্রী দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা, স্মরণিকার পূজা সংখ্যা প্রকাশ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ১৫০ জনের কণ্ঠে সমবেত বন্দেমাতরম পরিবেশন।

অনুষ্ঠানে আয়োজক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিরঞ্জন রায় বলেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গোৎসব পালনের মাধ্যমে সামাজিক সংহতি ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রসার ঘটানোই সাংস্কৃতিক ন্যাসের মূল লক্ষ্য।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রবীণ প্রচারক শশীকান্ত চৌথাইওয়ালে বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তির উপাসনার রীতিতে ভিন্নতা থাকলেও এর মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রকাশ ঘটে। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের গুণসিন্ধু মহারাজ দেবী দুর্গার সঙ্গে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর উপস্থিতিকে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। পাশাপাশি সমাজে অশান্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শঙ্কর মঠ ও মিশনের বিজ্ঞানন্দজি মহারাজ দুর্গাপূজাকে শক্তির উপাসনা হিসেবে ব্যাখ্যা করে বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের সার্বিক বিকাশের জন্য রাষ্ট্রশক্তি, বিদ্যা, সম্পদ ও বুদ্ধির সমন্বয় অপরিহার্য। অন্যদিকে, আরএসএসের দক্ষিণ আসাম প্রান্তের প্রচারক গৌরাঙ্গ রায় সনাতন সংস্কৃতি রক্ষায় সমাজে সৎ ও সাধুশক্তির বিকাশের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী উদয় শঙ্কর গোস্বামী, কে গোপাল সিং রাজকুমার, চন্দ্রকান্ত সিংহ, রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব এবং শিলচরের প্রাক্তন বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
এদিন সংস্কার ভারতীর শিল্পীরা বন্দেমাতরমের সুরে নৃত্য পরিবেশন করেন। বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। সন্ধ্যায় দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। রাত ৭টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।



