
বরাক তরঙ্গ, ১৬ অক্টোবর : লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিশাল মিছিল করে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে যৌথ হলফনামা পেশ করেছেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে কোর্টের উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরাসরি কোর্টকে জড়িয়ে ফেলা অনুচিত বলে এদিন মন্তব্য করলেন গৌহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী প্রদীপ দত্তরায়। তিনি এক প্রেসবার্তায় বলেন, হয়তো দেশের বিচার ব্যবস্থায় অনেক সমস্যা রয়েছে, তবু দিনের শেষে ন্যায় পেতে আমাদের সেই আদালতেরই দ্বারস্থ হতে হয়। এবং যখন নীচের কোর্টের রায় অযৌক্তিক বা অনায্য বলে কারুর মনে হয় তখন শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে যে কোন নাগরিক সুপ্রিম কোর্টকেই বেছে নেন। এছাড়া কোন বিকল্প নেই। তাই সুপ্রিম কোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করা সবার অবশ্যকর্তব্যের মধ্যে পড়ে। গনতন্ত্রের তৃতীয় স্তম্ভ কার্যকরী না থাকলে গনতন্ত্রই মর্যাদা হারাবে।
প্রদীপ দত্তরায় আরও বলেন, কোন ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মিছিল করতেই পারেন। প্রতিবাদ জানানোর এই পন্থা সর্বজন স্বীকৃত। কিন্তু বিশাল মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা পেশ করলে তা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের উপর পরোক্ষ ভাবে চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা বলেও ভাবা যেতে পারে। তাই এই ধরনের প্রয়াস নিন্দনীয়।

আইনজীবী বলেন, তাঁর দীর্ঘ পেশাগত জীবনে হাইকোর্টের বিচারপতিদের অনেক রায়কেই বিতর্কিত মনে হয়েছে। কিন্তু বিচার ব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষার্থে তিনি কখনোই প্রকাশ্যে সেসবের সমালোচনা করেননি, মেনে নিয়েছেন। এর কারণ শুধু আদালতের অবমাননা অনুচিত বলে নয়, কারণ বিচার ব্যবস্থার উপর জনগনের বিশ্বাসকে মান্যতা দেওয়া। অন্যথা পুরো ব্যাবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে এবং তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আমনাগরিক যারা ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হন।
তিনি বলেন, শাসক বা বিরোধী সমস্ত নেতৃবৃন্দকে এই ব্যাপারে আরো সাবধান হতে হবে। রাস্তার আন্দোলন রাস্তায়ই পথ খুঁজে নিক, সুপ্রিম কোর্টের বিচার এবং বিশ্লেষণ হোক যুক্তি, প্রতিযুক্তির বুদ্ধিদীপ্ত প্রয়োগে। একজন আইনজীবী হিসেবে এটাই তাঁর অবস্থান বলে এদিন জানান তিনি।



