মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৭ অক্টোবর : পাথারকান্দি সমজেলার প্রশাসনিক পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক ও জনমুখী করে তুলতে বৈঠাখালে প্রায় ১৯.৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন নতুন সিডিসি অফিস ভবনের কাজ জোরকদমে এগিয়ে চলেছে। বুধবার নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন পাথারকান্দির সমজেলা কমিশনার ত্রিদিব রায়। পরিদর্শনকালে তিনি ভবনের নির্মাণ অগ্রগতি, কাজের গুণগত মান, প্রস্তাবিত পরিকাঠামো এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ-সুবিধা খতিয়ে দেখেন। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক চাহিদা পূরণে নির্মীয়মাণ এই ভবন চালু হলে পাথারকান্দি সমজেলার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে আরও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে সরকারি পরিষেবা পেতে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়ানোর ভোগান্তিও কমবে।
পরিদর্শন শেষে সমজেলা কমিশনার ত্রিদিব রায় জানান, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উদ্যোগে রাজ্যের সমজেলা কার্যালয়গুলিকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় পাথারকান্দি সমজেলার জন্যও এই আধুনিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক পরিষেবাকে তৃণমূল স্তরে আরও কার্যকর ও নাগরিকবান্ধব করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি। প্রায় ১৯.৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য তিনতলা ভবনটিতে থাকবে মোট ৪৪টি কক্ষ। নির্বাচন, পরিকল্পনা, উন্নয়ন, আবগারি, খাদ্য ও গণবণ্টন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক শাখা একই ছাদের নিচে পরিচালিত হবে। এছাড়া প্রশাসনিক বৈঠকের জন্য প্রায় ৬০ জন ধারণক্ষমতার একটি কনফারেন্স রুম এবং অনলাইন বৈঠক ও সরকারি যোগাযোগের জন্য ২৫ জন ধারণক্ষমতার একটি ভিডিও কনফারেন্স হল নির্মাণ করা হচ্ছে।
ভবন চত্বরে প্রায় ৫০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষ, সরকারি আধিকারিক ও কর্মচারীদের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পুরো পরিকাঠামোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরিদর্শনের সময় সমজেলা কমিশনার নির্মাণকাজে গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, প্রকৌশলী ও আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে তিনি নির্মাণকাজে কোনো ধরনের গাফিলতি না করার নির্দেশ দেন।

জানা গেছে, তিনতলা এই প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণকাজ ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবনটি চালু হলে একদিকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ নির্বাচন, উন্নয়ন, পরিকল্পনা, আবগারি, খাদ্য ও গণবণ্টন-সহ বিভিন্ন পরিষেবা একই প্রশাসনিক পরিসর থেকে দ্রুত পাওয়ার সুযোগ পাবেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাথারকান্দির প্রশাসনিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।



