সাহিত্যচর্চার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিশিষ্টজনদের বক্তব্য, বই পড়ার আহ্বান_____
মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২ অক্টোবর : সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননশীলতার আবহে শ্রীভূমি শহরে উন্মোচিত হল সাহিত্য পত্রিকা ‘শ্রীহট্টজ্যোতি’র বহুল প্রতীক্ষিত পূজা সংখ্যা। শুক্রবার শহরের বিপিন চন্দ্র পাল স্মৃতি ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য ও বরাক উপত্যকার উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল উপস্থিত ছিলেন।
পূজা সংখ্যা প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শ্রীভূমির সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের সভাপতি সতু রায়, শ্রীভূমি বিজেপির সভাপতি সঞ্জীব বণিক, পিএনবির মুখ্য সম্পাদক হারান দে, কবি ও সাহিত্যিক দীপক হোম চৌধুরী, ‘সৃষ্টির আঙিনায়’-এর সম্পাদিকা শমিতা ভট্টাচার্য এবং সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক মিহির দেবনাথ-সহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বর্তমান সময়ে সাহিত্যচর্চা ও পাঠাভ্যাসের প্রয়োজনীয়তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসার মানুষের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করলেও গভীর চিন্তা, মনন ও মূল্যবোধ গঠনে বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বই শুধু জ্ঞানের উৎস নয়, মানুষের চিন্তা, মনন ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম মাধ্যম। প্রযুক্তির সুফল গ্রহণের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা বলেন, একটি সমাজের উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বৌদ্ধিক চর্চাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাহিত্য মানুষের চিন্তার পরিধি বাড়ায় এবং সমাজকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার সুযোগ করে দেয়।
শারদীয় উৎসবকে সামনে রেখে প্রকাশিত ‘শ্রীহট্টজ্যোতি’র পূজা সংখ্যা সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এই প্রকাশনা নতুন লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি স্থানীয় সাহিত্য-সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মত প্রকাশ করেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা।



