১ অক্টোবর : কোচ জর্জে জেসাসের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে মাঝপথেই পর্তুগাল শিবির ছাড়লেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। নরওয়ের বিরুদ্ধে নেশনস লিগের ম্যাচে তাঁকে প্রথম একাদশে রাখা তো দূরের কথা, দীর্ঘক্ষণ ওয়ার্ম-আপ করানোর পরও রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়। ডেনমার্কের বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচেও রোনাল্ডোকে নিয়ে একই পরিকল্পনা ছিল কোচের।
সাংবাদিক বৈঠকে জেসাস স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বড় তারকা হলেই তাঁকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, একজন বড় খেলোয়াড় বিশেষ সম্মান পেতেই পারেন, কিন্তু কোনও বিশেষ সুবিধা নয়। দলের ফুটবলারদেরও তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছেন বলে জানান। একই সঙ্গে কোচের বার্তা ছিল, দলের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শেষ কথা তাঁরই। কোচের এই মন্তব্য এবং দলের সামগ্রিক মনোভাব বুঝতে পেরে রোনাল্ডো অসন্তুষ্ট হন বলে জানা যায়। পরে এক বিবৃতিতে পর্তুগিজ তারকা জানান, তিনি কখনও দলের বোঝা হয়ে থাকতে চান না। পর্তুগালের তাঁকে আর প্রয়োজন নেই—এমনটা উপলব্ধি করেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান রোনাল্ডো।
ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনার পর রাতেই কোপেনহেগেন থেকে মাদ্রিদে পরিবারের কাছে ফিরে যান সিআর সেভেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে ফুটবলমহলে।
রোনাল্ডোর ভক্তদের একাংশের মতে, পর্তুগালের হয়ে তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষটা এভাবে হওয়া কাম্য ছিল না। দুই দশকেরও বেশি সময় জাতীয় দলের জার্সিতে খেলেছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্সের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পর্তুগালের ইউরো কাপ এবং নেশনস লিগ জয়ের ইতিহাস। ফলে এভাবে পর্তুগাল শিবির ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন তাঁর সমর্থকরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—রোনাল্ডোকে কি ফের পর্তুগালের জার্সিতে দেখা যাবে? তাঁর ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।



