৩০ সেপ্টেম্বর : দুই দশকেরও বেশি সময় পর ইরাক থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটিতে দীর্ঘদিনের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটল। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিজয় হিসেবে দেখলেও, এর ফলে ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর শেষ সদস্যরা দেশটির অবশিষ্ট ঘাঁটিগুলো ছেড়ে যান। এর মধ্য দিয়ে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-বিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশনেরও আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো। এ উপলক্ষে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে ইরাক সরকার।
২০২৪ সালে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক মিশন ধাপে ধাপে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ইরাকের অধিকাংশ এলাকা থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। সর্বশেষ উত্তর ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে অবস্থানরত অবশিষ্ট সেনারাও দেশ ছাড়লেন।
গত ১২ আগস্ট ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ৩০ সেপ্টেম্বরকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক মিশন শেষ ও সেনা প্রত্যাহারের ‘নির্ধারিত ও চূড়ান্ত’ সময়সীমা হিসেবে ঘোষণা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছিল, ১ অক্টোবর থেকে ইরাক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে এবং দেশটি বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে।
এখন সামরিক জোটের পরিবর্তে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর জোর দিতে চায় ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এবং কুর্দি অঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনীকেই আইএসবিরোধী লড়াইয়ের প্রধান দায়িত্ব পালন করতে হবে।
২০০৩ সালের ১৯ মার্চ ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট। ওই অভিযানে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর সাদ্দামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা এক লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছিল। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে শেষ মার্কিন যুদ্ধসেনারা ইরাক ছাড়েন। তবে ২০১৪ সালে আইএসের উত্থানের পর ইরাকি সরকারের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট আবার দেশটিতে সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলে।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিজয় হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, ইরাকি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার ফলে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শূন্যতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়ার পাশাপাশি আইএস পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
তবে গত কয়েক বছরে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ফলে মার্কিন বাহিনীর শারীরিক উপস্থিতি শেষ হওয়ার পর নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামোর মাধ্যমে ইরাক পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।



