মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৯ সেপ্টেম্বর : নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই শ্রীভূমিতে পাল্টা সরব হল বিজেপি। মঙ্গলবার শ্রীভূমি জেলা বিজেপির সদর কার্যালয় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি স্মৃতি ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধীদের ‘ভোট চুরি’ ও কমিশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ মিশন রঞ্জন দাস।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন, দাবি মিশনরঞ্জন দাসের
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের কাঠামোর মধ্যেই কাজ করছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর উদ্দেশ্য একটি নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য ভোটার তালিকা তৈরি করা। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকায় কারও নাম না থাকা এবং নাগরিকত্ব হারানো এক বিষয় নয়।
কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য প্রসঙ্গে মিশনরঞ্জন দাস বলেন, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ভিন্ন মত থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে তাকে কেন্দ্র করে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিকভাবে নিশানা করছেন।
এদিন নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে কংগ্রেসের অতীত ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন বিজেপি নেতা। টি এন শেষনের সময়কার বিতর্ক, নবীন চাওলাকে ঘিরে তৎকালীন বিরোধ এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচন-সংক্রান্ত ঘটনাপ্রবাহের উল্লেখ করে তিনি কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেন। জেলা বিজেপির সভাপতি সঞ্জীব বণিক, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ দাস এবং আইনজীবী বিপ্লব দেবও বিরোধীদের অভিযোগের সমালোচনা করেন। তাঁদের দাবি, জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্ব নেওয়ার পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলি অবাধ ও সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অনিল কুমার ত্রিপাঠী, উপ-সভানেত্রী সাথী রায় কুরি, পুরসভার সভাপতি রবীন্দ্র চন্দ্র দেব, জেলা বিজেপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক পাপ্পু কুরি-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।



