শরীর ও মুখে আঘাতের চিহ্ন, ঘর থেকে ছুরি ও দুটি লাঠি উদ্ধার
মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ সেপ্টেম্বর : পাথারকান্দি থানা অধীন দেওলাখাল এলাকার চাঁন্দখিরা বস্তিতে ভাড়াটে ঘর থেকে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতের নাম আব্দুল কাদির লস্কর। সোমবার তাঁর মৃতদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। ঘটনার তদন্তে মৃতের স্ত্রী রাসনা বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পাথারকান্দি থানার পুলিশ।
জানা গেছে, ঘরের ভেতর বিছানায় কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় আব্দুল কাদিরের মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃতের শরীর ও মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি ও দু’টি লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার ভোরে রাসনা বেগম ঘরে তালা লাগিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তাঁর আচরণে সন্দেহ হওয়ায় কয়েকজন প্রতিবেশী বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরে প্রতিবেশী আব্দুল মন্নান ঘরের দিকে উঁকি দিয়ে বিছানায় কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পাথারকান্দি থানার পুলিশ। পাশাপাশি পাথারকান্দি সমজেলা প্রশাসনের আধিকারিকরাও সেখানে উপস্থিত হন। পুলিশ ঘর থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।
এদিকে, মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন এবং ঘর থেকে ছুরি ও লাঠি উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলির সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রাসনা বেগম দাবি করেছেন, রবিবার রাতে স্বামী তাঁকে মারধর করেন। এরপর তিনি নিজেই ছুরি দিয়ে আত্মঘাতী হন বলে দাবি করেছেন রাসনা। যদিও তাঁর এই বক্তব্যের সত্যতা এখনও যাচাই করেনি পুলিশ। ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।



