বরাক তরঙ্গ, ২৫ সেপ্টেম্বর : হাইলাকান্দি শিক্ষা চক্রের উদ্যোগে শুক্রবার মৈত্রী ভবন, প্রবীণ নাগরিক ফোরাম ভবনে ‘সমন্বয়—সেবার বন্ধন’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১২১ নম্বর হাইলাকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ড. মিলন দাস। ১২২ নম্বর আলগাপুর-কাটলিছড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক জুবের আনম মজুমদারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমিরুল ইসলাম চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়সমূহের উপ-পরিদর্শক আবুল কাশিম, পৌরসভার সরকারি মনোনীত সদস্য স্বপন কুমার পাল, প্রবীণ নাগরিক ফোরামের সভাপতি ডা. নারায়ণ দেবনাথ ও সম্পাদক সুনীল কুমার শর্মা-সহ শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন আধিকারিক ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের পুষ্পস্তবক ও উত্তরীয় দিয়ে বরণ করা হয়। পরে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের দুই সঞ্চালক সিম্মী দাস ও প্রতুল সিনহা ‘সমন্বয়—সেবার বন্ধন’ নামটির তাৎপর্য এবং শিক্ষাক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিধায়ক ড. মিলন দাস এবং বিধায়ক জুবের আনম মজুমদারের প্রতিনিধি আমিরুল ইসলাম চৌধুরীকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক, একশৃঙ্গ গণ্ডারের প্রতিকৃতি, পোশাক ও শাল প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। অন্যান্য অতিথিদেরও স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘জীবন খুঁজে পাবি’ গানটি পরিবেশন করেন সর্বাণী ভট্টাচার্য, সুবর্ণা রায়, অর্পিতা সিংহ, মৌসুমী পাল, পায়েল পাল, সৌরভ ঘোষ, নাসিমা বেগম বড়ভূইয়া, মনোজ পাল, নসরত উল্লাহ লস্কর, ফারুক আহমেদ লস্কর, জয়নাল হোসেন বড়ভূইয়া, সিম্মী দাস ও প্রতুল সিনহা।
স্বাগত ভাষণে হাইলাকান্দি শিক্ষা চক্রের প্রাথমিক শিক্ষা আধিকারিক মনোজ কুমার কৈরি উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানান। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। বিদ্যালয়সমূহের উপ-পরিদর্শক আবুল কাশিম তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে হাইলাকান্দি শিক্ষা খণ্ডের গুচ্ছ সম্পদ কেন্দ্র সমন্বয়ক সারিমুল আলম লস্কর স্মারকলিপির সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন। এতে শৌচাগার নির্মাণ, সম্মেলন কক্ষ, গুদামঘর, প্রাথমিক শিক্ষা আধিকারিকের কার্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা এবং কার্যালয়ের সংস্কার ও উন্নীতকরণ-সহ বিভিন্ন পরিকাঠামোগত প্রয়োজনের কথা তুলে ধরা হয়।
আমিরুল ইসলাম চৌধুরী শিক্ষাক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিধায়ক জুবের আনম মজুমদার শীঘ্রই হাইলাকান্দি শিক্ষা খণ্ড পরিদর্শন করবেন।
নিজের বক্তব্যে বিধায়ক ড. মিলন দাস ‘সমন্বয়—সেবার বন্ধন’ নামটির তাৎপর্য তুলে ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর দায়বদ্ধতার কথা জানান। বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সকলকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
শিক্ষা চক্রের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলির মধ্যে শৌচাগার নির্মাণের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন বিধায়ক। তিনি জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে এই সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি গুচ্ছ সম্পদ কেন্দ্র সমন্বয়ক, হিসাবরক্ষক ও অন্যান্য কার্যালয় কর্মীদের বসার জায়গা সংস্কারের কাজ এক মাসের মধ্যে করার প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানের শেষে সঞ্চালক প্রতুল সিনহা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। পরে অতিথিরা হাইলাকান্দি শিক্ষা খণ্ড কার্যালয় পরিদর্শন করে বিভিন্ন কক্ষের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। শেষে অতিথিদের জলখাবার পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।



